কোভিড-১৯ :ব্রিটেনে এশীয়দের মৃত্যুহার ২০ ভাগ বেশি

ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষ। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে মারা যাওয়া ৩৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি মারা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষ। গবেষকেরা বলছেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ভ্যাকসিন কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার পর কাদের প্রথম তা প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরিতেও এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঐ সময় পর্যন্ত ২৬০টি হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিএএমই (ব্ল্যাক, এশিয়ান, মাইনরিটি, এথনিক) সম্প্রদায়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দক্ষিণ এশিয়ার গড়ে ১ হাজার মানুষের মধ্যে ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন বিশেষজ্ঞের একটি দলের তৈরিকৃত এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিএএমই সম্প্রদায়ের মধ্যে ইথনিকদের চেয়েও এশীয় দেশগুলোর অধিবাসীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন      পরই বিএএমই সম্প্রদায়ের ওপর করোনা ভাইরাস কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হলো। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয়দের সম্পর্কে বলা হয়েছে, লকডাউনের কারণে অভিবাসীদের অতিরিক্ত কুসংস্কার ও সামাজিক উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা, চাকরি হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে এটিই যে তাদের মৃত্যুহারের ওপর প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

গবেষণা দলের প্রধান এডিনবার্গ বিশ্ববদ্যালয়ের অধ্যাপক ইভেন হ্যারিসনও এশীয়দের মৃত্যুহার নিয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে যেখানে মারা যাওয়ার ঘটনা গড়ে ২৯০টি; সেখানে এশীয়দের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩৫০। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুর হার ৫ শতাংশ বেশি।

গবেষকেরা অবশ্য এর সঙ্গে ডায়াবেটিসের একটি যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অধ্যাপক হ্যারিসন বলেন, এশীয়দের ডিমেনশিয়া, বিষণ্নতা, ফুসফুসের সমস্যা কম থাকলেও ডায়াবেটিসের সমস্যা প্রবল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্বেতাঙ্গ রোগীদের মধ্যে যেখানে ২৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী, সেখানে দক্ষিণ এশীয়দের প্রায় ৪০ শতাংশই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ফলে এ বিষয়টিও এশীয়দের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ হতে পারে।

এর আগেও অনেক সময় ব্রিটেনে এশীয়দের মৃত্যুর হার বেশি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে যখন ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তখনো এশীয়দের মৃত্যুর হারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। ঐ সময় পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৩ হাজার ৯১৮ জনের মধ্যে ১৬ দশমিক ২ শতাংশই ছিল এশীয় বংশোদ্ভূত, যার মধ্যে ৩ শতাংশ ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ এবং ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মানুষ।—ডেইলি মেইল