সিলেট বিভাগে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করেনা পরিস্থিতি। এবার করোনা কেড়ে নিলো সিলেটের এক আইনজীবীর প্রাণ। শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী শনিবার ভোরে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তিনি গত ৬ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৪ দিন চিকিত্সা শেষে গতকাল তিনি মারা যান। এদিকে সিএমএম আদালতের ১১ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত। এদের মধ্যে রয়েছেন পেশকার, পিয়ন, ড্রাইভার ও গানম্যান। আক্রান্ত সাবই হোম আইসোলেশনে আছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেম। তিনি জানান, তাদের মধ্যে ১০ জনের শরীরেই কোনো উপসর্গ ছিল না।
এ দিকে সিলেট বিভাগে প্রতিদিনই অর্ধশতের ওপরে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রেড জোন সিলেটে এ সংখ্যা ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে নতুন করে ৯৫ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৯৮৬ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৬৮৮, সুনামগঞ্জে ৭৮৫, হবিগঞ্জে ২৭৬ ও মৌলভীবাজার জেলায় ২৩৭ জন। বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬ জন।
প্রবাসীদের সহযোগিতায় ৬২ বেডের দুটি হাসপাতাল প্রস্তুত
এ পরিস্থিতিতে করোনা চিকিত্সার সক্ষমতা বাড়াতে প্রবাসীদের সহযোগিতায় সিলেটে আরো দুটি হাসপাতালের ৬২ শয্যার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শুরু থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিলেটে একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিত্সা হচ্ছে। এখানে শয্যাসংখ্যা ১০০। এর মধ্যে আইসিইউয়ে ১৫টি শয্যা রয়েছে। এ হাসপাতালে রোগীদের প্রবল চাপ থাকায় সর্বমহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শহরতলির খাদিমপাড়াস্থ ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটির মেডিসিন ও নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমদ, জেনারেল সেক্রেটারি কর্নেল (অব.) আবদুস সালাম বীরপ্রতীক প্রমুখ যুক্ত হন এই কাজে। তারা এ দুই হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, অক্সিজেনের ব্যবস্থাসহ আনুষাঙ্গিক সুবিধা প্রদান করেছেন।