গত সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে গত শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঐ বৈঠকে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ঐ বক্তব্য স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনকে যে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেই বার্তা অনুসরণ করেই কথা বলেছেন। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মানচিত্রেই ভারতের সীমানা পরিষ্কার করে দেওয়া আছে।
বুধবার ভারত চীনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, চীন যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেয় তাহলে গলওয়ানের ঘটনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খুবই ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর চীনকে বলেছেন, ৬ জুন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমনের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তার বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে চীনা সেনারা যাতে প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐ আলোচনায় দুই পক্ষই উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবারের সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন হয়েছে। কোনোভাবেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করতে দেওয়া হবে না। এমন কোনো চেষ্টা হলে ভারত সর্বশক্তি দিয়ে তার প্রতিরোধ করবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারা ভারতের জমিতে হানা দিয়েছিল, তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন সেনারা। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখবে না ভারতীয় সেনা। ১৬ বিহার রেজিমেন্টের বলিদানের কারণেই চীনা অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং ঐ দিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যে অপচেষ্টা করা হয়েছিল, তা বানচাল করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সর্বদল বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলই দেশের বিপদের সময় সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যে সময় সীমান্তে আমাদের সাহসী সেনারা লড়াই করছেন তখন কয়েক জন অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে তাদের মনোবলে আঘাত হানার চেষ্টা করছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারত-চীন সম্পর্কে অন্যতম কাঁটা ‘আকসাই চীন’। ১৯৫৪ সালে ‘জনসন লাইন’ এর বৈধতা স্বীকার করে অঞ্চলটি যে ভারতের অংশ, তা পরিষ্কার করে দেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। ভারতের রাজনৈতিক ম্যাপে আজও জ্বলজ্বল করছে ‘আকসাই চীন’ বা সাদা পাথরের মরুভূমি।