চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ কি নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বাণিজ্য যুদ্ধের’ ধাক্কা সামলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। এ যুদ্ধের জের ধরে হুয়াওয়ে ফোন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটকের ঘটনা কি বিশ্বকে আবারো স্নায়ুযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? ধারণা করা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশ কাকে টপকে বিশ্বের প্রযুক্তি-নেতায় পরিণত হবে? অর্থাত্ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কে নেতৃত্ব দিবে— যুক্তরাষ্ট্র নাকি চীন?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রযুক্তি স্নায়ুযুদ্ধ কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশ দুটি তাদের গত কয়েক মাসের বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। গত ২০শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বড় ধরনের সাইবার হামলার জন্য চীনকে দায়ী করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা কোম্পানি ছাড়াও সরকারি নানা সংস্থায় হ্যাকিংয়ের জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কয়েক সপ্তাহ আগে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকম নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে নানা দেশে পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি (ফাইভ জি) নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ করছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই তাতে বেশ ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কাজ থমকে গেছে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর। এসব ঘটনায় প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রধান খেলোয়াড় হতে চাওয়া চীনকে গভীর সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। যদিও বেইজিং শক্তভাবেই পশ্চিমা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ক্ষুব্ধ চীনারা মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলা

এ যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেন যখন হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেং ওয়াংজু কানাডায় আটক হন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে। যুক্তরাষ্ট্র তাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানায় এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তার প্রতিষ্ঠান চীনা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ ও ইরানের কাছে টেলিকম প্রযুক্তি বিক্রি করছে।

হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বেলফার সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়াসের্র পরিচালক গ্রাহাম আলিসন বলেছেন, ‘আটকের পরিণতি যাই হোক না কেন, এটি এই বার্তা দিচ্ছে, চীনারা বুঝতে পারছে যে তাদের বিরুদ্ধে নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়েছে।’