ওবামার বাড়ির দেয়াল ১০ ফুট বলে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বাড়ির দেয়াল ১০ ফুট উঁচু বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা শুনে ওবামার প্রতিবেশীরা জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্পের কল্পনার কোনো জবাব নেই! ওবামার এখনকার বাড়ির বাইরে আসলে কোনো দেয়ালই নেই।

দক্ষিণ সীমান্তে প্রাচীর তোলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ির বাইরের দেয়ালের সঙ্গে রবিবার তুলনা করেছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট আর মিসেস ওবামা তাদের ওয়াশিংটনের ম্যানসনের বাইরে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরি করিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য এটা অবশ্যই দরকার। আমেরিকানদেরও এমনটাই প্রয়োজন। শুধু একটু বড় আকারের।

এই মুহূর্তে ওই দেয়াল তোলার প্রসঙ্গেই ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে টানাপোড়নে মার্কিন সরকারের অচল পরিস্থিতি দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। এ অবস্থা কাটার এখনো কোনো লক্ষণ নেই। তবে দেয়াল-বিতর্ক শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে প্রতিদিনই। ট্রাম্পের সামপ্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওবামার দুই প্রতিবেশী মুখ খুলেছেন সোমবার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি দৈনিক পত্রিকাকে তারা বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ির বাইরে কোনো দেয়াল তো নেই-ই। বরং রাস্তা থেকে সে বাড়ি যে কারো চোখে পড়বে। আট হাজার ২০০ বর্গফুটের ওই ম্যানসনে নানা ধরনের নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও দেয়াল বলে কিছু নেই। বাড়িটি ঘেরা আছে এক রকমের বেড়া দিয়ে। ওয়াশিংটনের অভিজাত ক্যালোরামা এলাকায় ওই ম্যানসনের আশপাশের সব বাড়িতেই ওইটুকু ঘিরে রাখা ব্যবস্থা রয়েছে।

যে প্রতিবেশীরা এই তথ্য দিয়েছেন, তারা ওই এলাকার বহুদিনের বাসিন্দা। শুধু ওবামা নন, ওই এলাকায় ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ্রি বেজোসও থাকেন। ২০১৭ সালে যখন ওই ম্যানসনটি তৈরি করা হচ্ছিল তখন একটি ফ্যাশন ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, সেখানে ‘দেয়াল’ রয়েছে। কিন্তু ওবামারা তখনো এসে ওঠেননি সেখানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই দৈনিক পত্রিকার দাবি, বাড়ির একেবারে সামনে সিক্রেট সার্ভিসের প্রয়োজনমতো যতটুকু ঘেরার দরকার— সেইটুকু শুধু মেনেছেন ওবামা-দম্পতি। এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে দাবি করেছেন ফ্রেড গুটেনবার্গ। পার্কল্যান্ড স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারায় তার সন্তান। ফ্রেড টুইটারে লিখেছেন, আপনি কি সত্যি সত্যি আমাদের সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিপদে ফেলতে চান? ওবামার বাড়ির ‘দেয়াল’ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দৈনিক পত্রিকার পক্ষ থেকে সিক্রেট সার্ভিসের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।