স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেরই সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের একজন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আর এই কথাটা তিনি নেতৃত্বে না থাকার পরও সত্য। তাই তো, সাবেক এই অধিনায়কের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রার্থনায় হাত তুলেছেন ভক্তরা। পিছিয়ে নেই ক্রিকেটাররাও।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেন, ‘আপনি সবসময় চ্যাম্পিয়ন এবং ইনশাল্লাহ এবারও আপনি সকল প্রতিকূলতাকে দূর করতে সক্ষম হবেন। কয়েক বিলিয়ন মানুষ আপনার জন্য দোয়া করছে ভাই, এই দেশে আপনাকে প্রয়োজন।’ বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন লিখেছেন, ‘খবরটি শুনে খুবই শকড হয়েছি। আশাকরি খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন মাশরাফি ভাই। সবাইকে মাশরাফি ভাইয়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করছি।’
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলী লিখেছেন, ‘আপনি সমস্ত যুদ্ধে জিতেছেন, আপনি এই যুদ্ধেও জিতবেন ইনশাল্লাহ!’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার সৌম্য সরকার লিখেছেন, ‘আশাকরি মাঠের যোদ্ধার মতোই যুদ্ধ করে বেশ ভালোভাবেই ফিরে আসবেন। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক। আমি সারা দেশে যারা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সকলের জন্যই প্রার্থনা করছি সবাই যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। শক্ত থাকুন চ্যাম্প।’
বাংলাদেশের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন লিখেছেন, ‘ম্যাশ কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। ইনশাল্লাহ আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হবেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ লিখেছেন, ‘আপনি সব যুদ্ধেই জয়ী হয়েছেন, ইনশাল্লাহ এই যুদ্ধেও জিতবেন আপনি। আমার চ্যাম্প শক্ত থাকুন, ভাই।’
গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শরীরে জ্বর অনুভব করেন নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি। এরপর কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং সেই নমুনার ফল আজ পজিটিভ আসে।
সকলের কাছে দোয়া চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফি লিখেছেন, ‘আজকে আমার কোভিড-১৯ রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন যাতে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারি। আমি বর্তমানে বাসায় থেকেই চিকিত্সা নিয়ে যাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ মেনে চলছি। করোনা নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।’
করোনা আক্রান্তদের সহায়তায় নিজের ১৮ বছরের ঐতিহাসিক ব্রেসলেট নিলামে তুলেন মাশরাফি। ২০০১ সালে জাতীয় দলে যোগদানের পর থেকেই হাতে ঐ ব্রেসলেট পরছিলেন তিনি। নিলামে সেই ব্রেসলেটটি ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এই অর্থ নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনে জমা হয়। এটি দিয়ে অসহায়-দুস্থদের সহায়তা করা হবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই নিজের নির্বাচনী এলাকায় ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ও দেশের মানুষের সহায়তার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মাশরাফি।