দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
করোনার ভয়ে অনেকেই ঘরে বন্দি হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়টায় স্বভাবসূলভ মজা ছেড়ে মানুষের পাশে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। নানাভাবে দুস্থ মানুষদের জন্য কাজ করছিলেন। কিন্তু সেই অপুকেও আপাতত একটা বিরতি দিতে হলো করোনার জন্য।
করোনা আক্রান্ত হয়ে আপাতত থমকে গেলেন জাতীয় দলের বাহাতি স্পিনার অপু। তবে এখানে থামতে চান না। বললেন, সকলের প্রার্থনা চান দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য। সুস্থ হয়ে আবার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
ঢাকার পরই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বড়ো জায়গা হয়ে উঠেছে অপুর শহর নারায়ণগঞ্জ। যখন সব খেলা বন্ধ হয়ে গেল, শুরুতে কিছুদিন মানুষকে সচেতন করার কাজ করেছিলেন। এরপর বুঝলেন এই সংকটে আশপাশে অনেক মানুষের আর্থিক কষ্ট শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর।
সেই কাজটায় কিছু টাকা সংগ্রহ করে নিজের দায় শেষ করতে পারতেন। কিন্তু অপুর চিন্তাটা একটু অন্যরকম। তিনি লোকেদের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করেছেন, একটা দল তৈরি করেছেন এবং নিজেই সেই কাজে নেমে পড়েছেন। কাজটা সম্পর্কে অপু বলছিলেন, ‘একা একা তো করা যায় না। তাই আমি একটা টিমের মতো করে নিয়েছিলাম। যারা এই কাজ করছে, তাদের স্বাস্থ্যর ব্যাপারটাও মাথায় রাখা হয়েছিল। আমরা ইউএনও স্যারের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ১৫টা কার্ড করে নিয়েছি। যাতে যে কেউ এই কাজের জন্য ঘোরাঘুরি না করে।’
অপু নিজে এই খাতে যতদূর পারেন বিনিয়োগ করেছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের তারকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচিত জনের থেকে সহায়তা নিচ্ছেন। সহায়তা করেছেন, এমনই একজন হলেন তামিম ইকবাল। দুই দফা অর্থ দেওয়া তামিমই কাল অপুর ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন এই উদ্যোগের কথা।
অপুর এই উদ্যোগটা ঈদের পর থেকে সেভাবে আর চালু নেই। লকডাউনের জন্য সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। তারপরও মানুষের মধ্যে ছিলেন। লোকেরা তার বাড়ি আসছিল সহায়তার জন্য। এর মধ্যেই নিজে আক্রান্ত হয়ে গেলেন। বলছিলেন, ‘কিভাবে যে আক্রান্ত হয়েছি, তা ঠিক জানি না। তবে মানুষের মধ্যেই তো ছিলাম।’
সাধারণ কেউ হলে হয়তো আফসোস করতেন। ভাবতেন, এভাবে ঘোরাঘুরি না করলে নিরাপদে থাকতাম। কিন্তু অপুর মধ্যে এই আফসোস নেই। তিনি বরং ফিরে আবার কাজটা করতে চান, ‘আফসোস করি না। কারণ, ঘরে বসে থাকলেও তো আক্রান্ত হতে পারতাম। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য। এখন সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেন। তারপর আবার মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’