দেশব্যাপী ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ’ ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ১০ হাজার লোকেশন ‘গুগল ম্যাপ’ ও ‘ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে’ যুক্ত করেছে তরুণরা। ক্যাম্পেইনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এবং গুগলের সমন্বয়ে গ্রামীণফোনের উদ্যোগে আয়োজিত। গতকাল অনলাইনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।
‘বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশের তরুণরা ঘরে বসে গুগল ম্যাপ এবং ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে তাদের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করেছে। বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশের ভৌগোলিক ম্যাপিং হালনাগাদ করা খুবই জরুরি। কারণ হাসপাতাল, স্থানীয় পণ্যের বাজার, রিচার্জ পয়েন্ট, নগদ/বিকাশ পয়েন্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ম্যাপে চিহ্নিত করা জরুরি। আগে শহরাঞ্চলের বাইরের গুগল ম্যাপে পয়েন্ট করা ছিল না। কিন্তু ডিজিটাল ম্যাপ হালনাগাদ করার কারণে এ জাতীয় সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপস্থাপিত পাঁচটি কনটিনিউটি পরিকল্পনা খুব দ্রুততম সময়ে অনুমোদন করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে ঘরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সব সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ একত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ সুবিধা চালু এবং বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা যেন অগমেন্টেড রিয়েলিটি সলিউশন ডেভলপসহ গুগলের প্রোডাক্ট উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেই সুযোগ প্রদানের জন্য গুগলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুগল ম্যাপে এরই মধ্যে বাংলা ভাষার সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল কর্তৃপক্ষ। শহর, উপ-শহরের পর এবার এদেশের তরুণরাই গ্রামের স্থাপনা ও রাস্তাকে গুগল ম্যাপে সংযুক্ত করেছে। গ্রামীণফোন, গুগল, স্কাউটস এবং এটুআইকে ধন্যবাদ জানাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং এই ডিজিটাল ম্যাপিংকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা নিয়ে নাগরিকদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।’
এখন পর্যন্ত এ কার্যক্রমে প্রায় ৩১ হাজার রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার ম্যাপ পোস্ট পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ফেসবুকে ৮ দশমিক ৫ মিলিয়নের বেশি রিচ এবং ৯৬ দশমিক ৭ মিলিয়নের বেশি ইমপ্রেশন পাওয়া গেছে। তরুণরা তাদের বাড়িতে অবস্থান করে সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনেই এই পুরো ম্যাপিং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পেরেছে। ম্যাপিং কার্যক্রমে অবদান রাখা শীর্ষ ১০০ জন তরুণকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে দুই মাসের জন্য ১০ জিবি ইন্টারনেট দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ক্রেস্ট প্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ জন ম্যাপারের নাম ঘোষণা করেন। অন্যদিকে শীর্ষ ২০০ জন ম্যাপার এটুআইয়ের ‘একশপ’ প্ল্যাটফরমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে বলে জানান। তারা সুপার স্টোর, মুদি দোকান, ফার্মেসি, কুরিয়ার সার্ভিস এবং দেশের পর্যটন স্থানগুলোর ভৌগোলিক ম্যাপিং করার কাজে সহযোগিতা করবে, যা জেলা-ব্রান্ডিং কার্যক্রমকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ৩১ হাজার রেজিস্টার্ড ম্যাপারের সবাইকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে ই-সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, শুরুতে আমরা গুগল ম্যাপ এবং ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে হাসপাতাল, ফার্মেসি, স্কুল-কলেজ এবং মোবাইল রিচার্জ পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তবে এটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করবে।
এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের তিনটি পিলারের মধ্যে ‘তারুণ্যের শক্তি’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পিলার। একাত্তরের মতো এই ম্যাপিং কার্যক্রমে তরুণরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের দূরত্ব কমিয়ে আনবে ম্যাপিং ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এরই মধ্যে ৫ হাজার হাসপাতাল, ১৬ হাজার ফার্মেসি এবং ২০ হাজার মুদি দোকান সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি ৮৭০টি রাস্তা ম্যাপে যুক্ত হয়েছে।