যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ছে, কমছে তিস্তার

বিপত্সীমার নিচে নেমেছে তিস্তা নদীর পানি। তবে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আরো কয়েক দিন বাড়বে। এ দুটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপত্সীমা অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, তিস্তার পানি বিপত্সীমার নিচে নেমেছে। ফলে সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। আজ সোমবার থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। ফলে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ধারণা করছে। তারা জানায়, গত  মে মাসের শেষের দিকে যমুনা নদীতে যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়েছে, তা ৩২ বছরে সর্বোচ্চ।

এদিকে হঠাত্ যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে চর এলাকার  নিম্নাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। এর মধ্যেই     যমুনা অববাহিকার পাঁচ উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার  সোনাতনী, জালালপুরের কৈজুরী, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, মেছড়া, কাজীপুরের খাসরাজবাড়ী, মাইজবাড়ী, তেকানি, নাটুয়ারপাড়া, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর এবং চৌহালীর স্থল, ঘোড়জান, সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশে সার্ভে করছি, যাতে কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি। বাঁধগুলোর অবস্থা ভালো আছে।’

তিস্তায় পানি কমছে, ভাঙন শুরু

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর জানান, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমা অতিক্রম করলেও গতকাল রবিবার থেকে কমতে শুরু করেছে। ফলে রংপুর বিভাগের চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল ৬টায় ব্যারাজে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে গত শনিবার ভোর থেকে পানির প্রবাহ কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছিল। এতে রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

এদিকে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। তিস্তার বাম তীরের সদর উপজেলার চর  গোকুণ্ডা, আদিতমারী উপজেলার কুটিরপাড়, চণ্ডীমারী, বালাপাড়া এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

আত্রাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে জমি-বাড়ি

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারও নদীভাঙনের আশঙ্কা করছেন তিন গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দ। তাদের অভিযোগ, আত্রাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারণে নদী গতিপথ হারাচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধসহ নদীভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কয়েক শ একর  আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।

রাজারহাটে ভাঙনের আতঙ্ক

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংরারহাট এলাকার পাড়ামৌলা, চতুড়া, মন্দির, রতি, গাবুবহেলান, রামহরি, তৈয়বখা গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার। তারা তিস্তা নদী খননের দাবি জানিয়েছে।

বাগমারার নদী-খালে-বিলে বন্যার পানি

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, বন্যার পানিতে টইটম্বুর ফকিরানী নদী। খাল-বিলে ঢুকে পড়েছে অঝোরধারার বর্ষার পানি। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পরিমাণ পানিতে কিলবিল করছে বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ। আর এই মাছ ধরতে কোথাও জাল ফেলে কোথাও কোলসান নিয়ে ছোটাছুটি করছে মত্স্য শিকারিরা। অনেকে কোঁচ নিয়ে শিকার করছে শোল-বোয়াল মাছ।