অদক্ষ চালকদের হাতে বাস, ঘটছে দুর্ঘটনা

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সড়ক-মহাসড়কে নেই আগের মতো যানবাহনের বাড়তি চাপ। কিন্তু ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বাসচালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। আর তাতে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে রাজধানীসহ সারাদেশে। এছাড়া আইনের তোয়াক্কা না করা এবং উলটো দিকে গাড়ি চালানোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, গত এক মাসে ২৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৪০ জন।  সর্বশেষ গতকাল রবিবার পাবনা, ময়মনসিংহ, নাটোরসহ  কয়েকটি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাত জন নিহত হয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনেক পেশাদার চালকই করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে অপারগতা প্রকাশ করছে। আর এই সুযোগে অপেশাদার ও অদক্ষ চালক দিয়েই বাস চালাচ্ছে মালিকরা। এসব চালক ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যাত্রী পাওয়ার জন্য কার আগে কে যাবে—এমন অশুভ প্রতিযোগিতায়  লিপ্ত হচ্ছে। মূলত দিনচুক্তিতে গাড়ি চালাতে গিয়েই চালকরা যাত্রীর জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কারণ দিন শেষে তাদের একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মালিককে দিতে হয়। আর রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় সারাদিন ট্রিপ মেরেও আশানুরূপ আয় করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহনে সরকার ঘোষিত নিয়ম-নীতিও যথাযথভাবে মানা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে চালকদের বেপরোয়া আচরণের জন্য ট্রাফিক পুলিশেরও দায় রয়েছে। বর্তমানে তাদের গাছাড়াভাবে দায়িত্ব পালনে রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় থাকছে না। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই অহরহ ওভারটেকিং, সিগন্যাল না মানাসহ ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে। আর রাস্তায় যানবাহন কম থাকার সুযোগে ট্রাফিক পুলিশ ঠিকমতো ডিউটি পালন না করে বক্সে গিয়ে       বসে থাকছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই মহাসড়কে চলতে দেখা গেছে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক। শুধু কি তাই, মহাসড়ক দিয়ে উলটো পথেও দিন-রাত চলছে মোটরচালিত রিকশা ও ভ্যান। এসবের দিকে পুলিশের কোনো নজর নেই।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা খুব বেশি হচ্ছে না। তবে দু-একটা ঘটনা ঘটছে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আমরা সে ব্যাপারে শক্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চালক-হেলপারদের নিয়ে মোটিভিশন ওয়ার্ক করা হচ্ছে। যাতে বেপরোয়া গতিতে কেউ গাড়ি না চালায়। সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরই আমার গোটা টিম (হাইওয়ে পুলিশ) কাজ করছে। কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে যানবাহনের সংখ্যা কমলেও দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেনি। প্রচলিত যে সিস্টেম আছে সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে নতুন আইন করে বা কড়াকড়ি করে কোনো কাজ হবে না। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের ডিজিটাল বা ক্যামেরা পদ্ধতিতে যেতে হবে। আর এটির মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় জাগ্রত হবে। আর ভয় জাগ্রত হলেই কেবল মানুষ আইন মানার প্রতি ঝুঁকবে। তিনি আরো বলেন, নতুন যে সড়ক পরিবহন আইন করা হয়েছে, বাস্তব অর্থে তা বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন আইনের স্থগিতাদেশ ছয় মাস হলেও তা পার হয়ে এখন আট মাস চলছে। এখনো চালকরা এই কথা বলে পার পেয়ে যাচ্ছে, আইন তো স্থগিত আছে। এ ব্যাপারটি সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। আর সামাজিক গণজাগরণ সৃষ্টি না হলে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।