ভাড়া না বাড়ালে ২৭ জুন থেকে সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে লঞ্চমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যা-প) সংস্থা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে যাত্রী কমে যাওয়া এবং গত সাত বছরে ভাড়া না বাড়ানোর কারণ দেখিয়ে এই ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঞ্চমালিকেরা।
তবে ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে হঠাত্ করে এ ধরনের আলটিমেটাম নৌ সেক্টরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংকটের মধ্যে যাত্রী জিম্মি করে দাবি আদায়ের এই কৌশলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে লঞ্চমালিকেরা বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে যাত্রী কমে গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও স্থানীয় প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে গিয়ে যাত্রীসংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। বৈঠকে লঞ্চে ভাড়া ২৯ থেকে ৩৬ শতাংশ না বাড়ালে আগামী ২৭ জুন থেকে সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা, অর্থাত্ ২৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১০০ কিলোমিটারের পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার পথের জন্য ১ টাকা ৪০ পয়সার স্থলে ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৩৬ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানাবেন মালিকেরা। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার বিষয়ে মালিকেরা একমত হন। বিষয়টি দুই-এক দিনের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে। এছাড়া বৈঠকে অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ সংশোধন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মালিকেরা। তারা নৌ দুর্ঘটনায় মালিকের সাজার বিধান বাতিলের দাবি জানান। এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে একটি চিঠি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে নৌ সেক্টরে কয়েকটি ক্ষেত্রে কর আরোপ নিয়েও আলোচনা করেন লঞ্চমালিকেরা।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যা-প) সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, আমরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। প্রতি কিলোমিটারে ৫০ পয়সা হারে ভাড়া না বাড়ালে লঞ্চ চালাতে মালিকেরা অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমরা সরকারকে জানাব।