চলছে এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়ে বড়োদের পাশাপাশি ছোটরাও নানাভাবে যুক্ত রয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে ক্লাস, পরীক্ষা আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। সেইসঙ্গে সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছোটরাও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সবাইকে জানাচ্ছে কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেউ ছবি আঁকছে, কেউ গান করছে, কেউ নাচ করছে, আবার কেউ গল্পের বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। আমরা কঁচি-কাচার আসরের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়েছি—তোমরা কে কেমন করে ঘরবন্দি সময় পার করছ এবং এ পরিস্থিতিতে তোমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা লিখে তোমাদের একাধিক ছবিসহ আমাদের পাঠিয়ে দাও। আমরা তা কচি-কাঁচার আসরে প্রকাশ করব। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই লেখা এবং ছবি পাঠাতে শুরু করেছে। তোমরা যারা এখনো পাঠাওনি তারা দ্রুত পাঠিয়ে দাও। আমাদের এই আহবানে সাড়া দিয়েছে আমাদের বন্ধু জাফরিন কবির আনবার। চলো তার কাছ থেকে শুনি তার করোনার দিনগুলোর গল্প—
আমার নাম জাফরিন। আমরা তিন বোন। ভালোই দিন যাচ্ছিল আমাদের, কিন্তু হঠাৎ করোনা (কোভিড-১৯) নামের এক অদৃশ্য ভাইরাস এসে আমাদের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের স্কুল, খেলার মাঠ, এমনকি ঘরের দরজাটিও। এখন কী আর করব, করোনার ভয়ে কোথাও যেতে পারছি না।
তবে অনেকদিন পর বাবা-মাকে কাছে পেয়েছি আমরা তিন বোন। সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টা, পড়াশোনা, ছবি আঁকা ও বাসায় খেলাধুলা করতে করতে সময় কেটে যায়।
এখন সকালে ঘুম ভাঙে পাখির কিচিরমিচির ডাকে। ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখি পাখিরা মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। আহ্ এখন তাদের কী যে আনন্দ, ইশ্ আমিও যদি পাখি হতাম! তাহলে আমিও উড়ে বেড়াতাম আর খেলা করতাম ওদের সাথে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের মনের সব আনন্দ থেমে গেল।
এখন কেবলই ভাবছি, করোনা ভাইরাস কবে যাবে, কবে সেই আগের আনন্দ ফিরে আসবে, কখন স্কুলে যেতে পারব, বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারব, আবার কবে মাঠে খেলাধুলা করব, মজা করব। যখন করোনা চলে যাবে তখন খুব মজা হবে।
দ্বিতীয় শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, বনশ্রী শাখা, ঢাকা
লেখা পাঠানোর ঠিকানা: kochikacharaashor@gmail.com