আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের সেবা করাটা একটি বড় কাজ এবং আমি যতদিন বেঁচে থাকবো এটা অব্যাহত রাখবো। নির্বাচনের পরে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অব্যাহতভাবে তাঁদের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় শেখ হাসিনা জনগণের আশা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাওয়ারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে গতকাল বুধবার বিকালে গণভবনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, তরুণ সাংবাদিক, স্কাউটসসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে তিনি এ কথা বলেন। রাতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে জোটভুক্ত দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের এসকে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ন্যাপ সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তাক হোসেন, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা এমএ গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা জানানো শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘১৪ দল আপনার সঙ্গে সবসময় আছে, আগামীতেও থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সামনে এগিয়ে যেতে, সুন্দর দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, রবিবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় সকল সম্প্রদায় এবং শ্রেণি-পেশার জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। এই যে দায়িত্বটা পেলাম সকলেরই সহযোগিতা কামনা করি। যেন দেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়তে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, সমাজের সর্বস্তরের জনগণ আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য সর্বান্তকরণে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং এজন্য আমি তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। শেখ হাসিনা তাঁর সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি এবং মাদক বিরোধী অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের জঞ্জালের কোন স্থান হবে না।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাঁর দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে গণভবনে আগত বিভিন্ন সংস্থার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ স্কাউটস এবং গার্লস গাইড এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটা উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করতে পারবো। আমি মনে করি সকলের সমর্থন পেয়েছি বলেই আজকে আমরা জয় লাভ করে দেশকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। শেখ হাসিনা বলেন, যে কাজগুলো করেছি এবং অনেকগুলো কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে সেগুলো সম্পন্ন করা। দেশকে আরো উন্নত সমৃদ্ধশালী করা। যে দেশের স্বপ্ন আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা দেখেছিলেন- বাংলাদেশ হবে একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। বিশ্ব সভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলবো।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে ভূমিকা রাখায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ গঠন, সন্ত্রাস দূরীকরণ ও জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একযোগে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. কাজী সাইফুদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শাহীন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকাস্থ রংপুর বিভাগ সমিতি। সকালে সমিতি নেতারা গণভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল অভিনন্দন জানান। রংপুর বিভাগ সমিতির সভাপতি সাবেক সিনিয়র সচিব মাহফুজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ সময় সমিতির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হূদ্যতার বন্ধনে তারা
একজন দেশের বৃহত্ রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। আরেকজন জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক। হঠাত্ একে অন্যকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য কেড়ে নিল উপস্থিত সবার দৃষ্টি। এ চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে। গতকাল গণভবনে এ বন্ধনের চিত্র ধারণ করতে সবকটি ক্যামেরার ফ্লাশ একসঙ্গে জ্বলে ওঠে। পর মুহূর্তে জানা যায়, এ বন্ধন সাধারণ কোনো বন্ধন নয়। এ বন্ধন সংগ্রামের, ইতিহাসের। অনেক দিন আগের কথা। দুজনই তখন ঢাকার ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী। পরাধীন দেশের মাটিতে দুই মতাদর্শ ধারণ করেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছিলেন তারা। ইডেন কলেজ শাখায় নির্বাচিত হয়েছিলেন একজন ভিপি, অপরজন জিএস।
তাদের একজন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিগগিরই শপথ নেবেন। আরেকজন হলেন প্রফেসর নাজমা শামস। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউট গার্লস ইন স্কাউটিং ফোরাম জাতীয় কমিটির সভাপতি। ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। দেখেই একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরেন। তখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই মুখ খুললেন। জানালেন, তিনি যখন ইডেন কলেজের ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন তখন প্রফেসর নাজমা শামস ছিলেন জিএস। শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ থেকে আর নাজমা শামস ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন থেকে। কিন্তু সম্পর্কটা ছিল খুবই আন্তরিকতায় ভরপুর। সেই সম্পর্ক এখনও আছে।