দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

 

যে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করা হয় তাকে মূলধন বাজার বলে

নির্মল ইন্দু সরকার, প্রভাষক

সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

সাধারণত আদর্শ বিচ্যুতির বড় মান অধিক ঝুঁকি এবং আদর্শ বিচ্যুতির ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে। সমান আয়ে কম ঝুঁকি বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সমান ঝুঁকিতে অধিক লাভ বেশি গ্রহণযোগ্য।

 

 

 

১। নিচের উদ্দীপক পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

রফিক সাহেব সরকারি কর্মকর্তা। তিনি আগামী বছর অবসরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। অবসরে গিয়ে তিনি ঝুঁকিমুক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের কথাও ভাবছেন। যেখান থেকে মুনাফা পূর্বনিধারিত ও নিশ্চিত।

ক.মূলধন বাজার কী?

খ. আদর্শ বিচু্যিতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ নীতি ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের রফিক সাহেব অবসর গ্রহণের পর কোন ধরনের ঝুঁকিমুক্ত প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. অবসর গ্রহণের পর রফিক সাহেব দেশের বোঝা হবে না,অর্থনৈতিক সম্পদ হবে।-উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:

ক. যে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি (১ বছর বা তার বেশি সময়) আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করা হয় তাকে মূলধন বাজার বলে।

খ. সাধারণত আদর্শ বিচ্যুতির বড় মান অধিক ঝুঁকি এবং আদর্শ বিচ্যুতির ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে। সমান আয়ে কম ঝুঁকি বেশি গ্রহণযোগ্য এবং সমান ঝুঁকিতে অধিক লাভ বেশি গ্রহণযোগ্য। এটাই আদর্শ বিচ্যুতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ নীতি।

গ. প্রকৃত আয় প্রত্যাশিত আয়ের  সমান হলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য করা হয়। কোনো ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রাখা হলে এর প্রত্যাশিত আয় ও বাস্তব আয়ের মধ্যে তেমন পার্থক্য হয় না। এটা ঝুঁকিমুক্ত আয়ের একটি ধরণ। জনাব রফিক সাহেব অবসর গ্রহণের পর তার অর্থ ব্যাংকে মেয়াদি আমানতে রাখতে পারেন, যা ঝুঁকিমুক্ত আয়ের একটি ধরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। আবার সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ঝুঁকিমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হয়। সরকার কর্তৃক ইস্যু হয় বলে এসব বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়। জনাব রফিক সাহেব ট্রেজারি বিল বা ট্রেজারি বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারেন।

ঘ. অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশের বোঝা নয়, অর্থনৈতিক সম্পদ। জনাব রফিক সাহেব সরকারি কর্মকর্তা। তিনি অবসরে যাওয়ার পর পেনশন হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা পাবেন। তিনি তার পেনশনের টাকা ঝুঁকিমুক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন। তিনি এটাও আশা করছেন তার মুনাফা পূর্বনির্ধারিত থাকবে, যার কোন অনিশ্চয়তা থাকবে না। তার পেনশনের টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে চান। দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। তাই বলা যায়, রফিক সাহেব দেশের বোঝা নয়, অর্থনৈতিক সম্পদ।