মাগন্তিনগরসহ ১০ গ্রাম থেকে কালাজ্বর যাচ্ছে না!

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

গ্রামের নাম মাগন্তিনগর যেদিকে তাকানো যায় শুধুই মাটির ঘর। এ ঘরের সঙ্গেই হাঁস-মুরগির মাটির খোয়াড়। এসব মাটির ঘর ও খোয়াড় হচ্ছে বেলে মাছির নিরাপদস্থল। আর বেলে মাছি যে রোগ ছড়ায় তার নাম কালাজ্বর। এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি গ্রাম। শুধু মাগন্তিনগর নয়, আশপাশের জাঙ্গালিয়া, বেড়িবাইদ, ভুটিয়া, রাণীয়াত, জটাবাড়ী, পালবাড়ীসহ মধুপুরের ১০টি গ্রামে কালাজ্বরের প্রকোপ দেখা যায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের ময়মনসিংহ ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে মাগন্তিনগরে কালাজ্বর ও ম্যালেরিয়ার তথ্য রয়েছে। এজন্য মাগন্তিনগরকে বলা হয় কালাজ্বরের গ্রাম। ১৯৩০ থেকে ২০২০। কেটে গেছে ৯০ বছর। কিন্তু মাগন্তিনগর থেকে কালাজ্বর নির্মূল হয়নি।

ঐ গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, এ গ্রামের মানুষ এখনো কালাজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গড় এলাকার ফুলবাড়িয়া, ভালুকা, মুক্তাগাছা (অংশবিশেষ), ঘাটাইল ও সখিপুর উপজেলায় কালাজ্বর রোগী মিলছে। কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও যথাযথ চিকিত্সার জন্য এক দশক আগে ময়মনসিংহের এসকে হাসপাতালে কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী সূত্রে জানানো হয়, বর্তমানে এ রোগ ময়মনসিংহের ত্রিশাল, গফরগাঁও এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

মধুপুর উপজেলা হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি নিরাময় চিকিত্সক ডাক্তার মইন খন্দকার জানান, মাটির ঘর, খোয়াড়, গোশালা থেকে বেলে মাছির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। কালাজ্বর কিছু নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তরা জটিল না হলে চিকিত্সা নিতে আসেন না।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রুবিনা ইয়াসমিন জানান, উপজেলা হাসপাতালেই কালাজ্বরের পরীক্ষা হয়। পর্যাপ্ত ওষুধও দেওয়া হয়। আক্রান্তের সংখ্যা কমছে।

সিভিল সার্জন ডাক্তার ওয়াহিদুজ্জামান জানান, টাঙ্গাইলের ছয় উপজেলায় কালাজ্বর রয়েছে।

জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচির পর্যবেক্ষণকারী টিমের সদস্য ডাক্তার মাহবুব জানান, ২০০৮ থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও জামালপুরসহ ২৬ জেলায় কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণে ডেল্টা মেথ্রিন বাড়িঘরে স্প্রে করা হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশ কালাজ্বরমুক্ত হবে বলে জানান তিনি।