একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের ১৬১ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওইসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তবে নির্বাচনের ইতিহাসে এতো বেশি সংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর রেকর্ড নেই বললেই চলে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৯টি দলের মধ্যে ৩৮টি দলের প্রার্থী বেশিরভাগ আসনে জামানত খুইয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিএনপি জামানাত হারিয়েছে বরিশাল বিভাগে। ওই বিভাগের ২১টি আসনের সবকয়টিতে জামানত হারিয়েছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনে ২০টি আসনে বিএনপির চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা।
জামানত হারানো নেতাদের মধ্যে আছেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, কুমিল্লা-২ আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নরসিংদী-৩ আসনে আবদুল মঈন খান, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আবদুল্লাহ আল নোমান, পটুয়াখালী-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ভোলা-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ভোলা-৪ আসনে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার, ঝালকাঠি-১ আসনে শাহজাহান ওমর, টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফর রহমান খান আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, নরসিংদী-৪ আসনে সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, কুমিল্লা-৭ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমদ, কুমিল্লা-১০ আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফেনী-১ আসনে মুন্সী রফিকুল আলম, ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবেদিন, নোয়াখালী-২ আসনে সাবেক এমপি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল খায়ের ভুঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, গাইবান্ধা-৫ ফারুক আলম সরকার, জয়পুরহাট-২ এ ই এম খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব উল্লেখযোগ্য। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারি, লালমনিরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থীরা সবাই জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৯টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ১ হাজার ৮৬১ জন অংশ নিয়েছিলেন। ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। ওই ভোটে ১ হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৪১ জন জামানত হারিয়েছিল। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১৬৭ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। আওয়ামী লীগের ৪ এবং বিএনপির ১৪ জন জামানত খুইয়েছিলো। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬৩ জন প্রার্থী জামানত হারান।