পুলিশের কোনো সদস্য অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না বলে জানিয়ে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কেউ যদি বড়োলোক হতে চায়, তাহলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করুক, বড়োলোক হোক, আমরা তাকে সাধুবাদ জানা?ব। কিন্তু, পুলিশে থেকে কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা যা?বে না। রবিবার সন্ধ্যায় সিএমপি, কেএমপি আরএমপি, বিএমপি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, র্যাব পিবিআই, রেলওয়ে, টুরিস্ট, হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় পুলিশ সদর দপ্তর। এ সময় বর্তমান প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে পুলিশি সেবা জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান আইজিপি। ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশি সহায়তা পেতে জনগণকে এখন পুলিশের কাছে আসতে হয়। এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চাই, যাতে জনগণকে পুলিশের কাছে আসতে না হয়, বরং পুলিশই জনগণের কাছে সেবা নিয়ে যাবে।
বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনা দেন আইজিপি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি ইউনিয়নকে একেকটি বিটে ভাগ করে প্রতিটি বিটের দায়িত্বে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করা হবে। তিনি নিয়মিত ঐ ইউনিয়নের মানুষের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ইত্যাদির খোঁজখবর করবেন, প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন, তাদের মতামত জানবেন। তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধান করবেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা দেবেন।
ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেটে বিট পুলিশিংয়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এসব এলাকায় বিট পুলিশিং সফল হয়েছে। আমরা সারাদেশে বিট পুলিশিং চালু করতে চাই, মানুষের কাছে যেতে চাই, মানুষের হূদয় জয় করতে চাই।
করোনাকালে পুলিশের সেবার কথা উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনার সময় জনগণকে আমাদের কাছে আসতে হয়নি। আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, তাদের পাশে থেকেছি, তাদের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়েছি, জীবন বিলিয়ে দিয়েছি। তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি, যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি, তাদের ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির আপনজনরা যখন কাছে আসেনি তখন আমরা তার দাফন এবং সত্কারের ব্যবস্থা করেছি। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল না, কিন্তু আমরা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজটি করেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ অনবদ্য ভূমিকার জন্য আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশবাসী অকুণ্ঠচিত্তে আমাদের প্রশংসা করছেন। দেশের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা আমাদের পক্ষে কলম ধরেছেন।
বক্তব্যের শুরুতে আইজিপি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে আত্মদানকারী পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। যারা অসুস্থ রয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।