চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষার ফল জানাতে ওয়েবসাইট খুলেছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। নমুনা সংগ্রহের সময় যে মোবাইল নম্বর নেওয়া হবে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ঐ নম্বর দিয়েই করোনা পরীক্ষার ফল জানা যাবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে করোনা নমুনা পরীক্ষার চাপ বেড়ে যাওয়ায়, প্রদত্ত নমুনার ফলাফল পেতে ১৫/২০ দিন দেরি ও প্রয়োজনের তুলনায় চট্টগ্রামের ল্যাব সক্ষমতা কম থাকার অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি, পিপলস ভয়েসসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ল্যাব সক্ষমতা বাড়ানো না হলে, ওয়েবসাইটের সুফল মিলবে না।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, এই ওয়েবসাইটটি মূলত গত ১৭ জুন থেকেই পুরোদমে চালু হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ঘরে বসেই জানার ক্ষেত্রে এটি একটি সহজ উপায়। এতে মানুষের শারীরিকভাবে ও অনিরাপদভাবে ছুটাছুটি করার যে ঝুঁকি তা হ্রাস পাবে শতভাগ। আর ল্যাব থেকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে বলে ফলাফল জানতে প্রতিদিন জনসাধারণকে সিভিল সার্জন অফিসে এসে ভিড় করতে হবে না। উপরন্তু ফলাফলও জানা যাবে আগের তুলনায় দ্রুত। এজন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করছে বলেও তিনি জানান। সিভিল সার্জন জানান, www.ysab.info ওয়েবসাইটে ক্লিক করলে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন জানা যাবে। সেই সঙ্গে ওয়েবসাইটে করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে একটি নির্দেশনা দেখানো হবে।
চট্টগ্রামে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি পাঁচটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব ও বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবেও চট্টগ্রামের কিছু নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নমুনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৩ হাজার নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০০ নমুনার প্রতিবেদন গত ১৯ ও ২০ জুন পাওয়া গেছে। ১ হাজার ২০০ নমুনার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামে আরো অন্তত ২০/২৫টি পিসিআর মেশিন দেওয়ার দাবি তুলেছেন। সেই সঙ্গে চেয়েছেন প্রয়োজনীয় জনবলও। তাহলে নমুনা জট কেটে যাবে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত আইসোলেশন সেন্টার অনতিবিলম্বে গড়ে তোলা দরকার। আইসোলেশন সেন্টারগুলো একেকটি হাসপাতালের দায়িত্বে প্রদান করলে সেখানে যারা ভর্তি হবে তারা প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সুবিধা পেতে সক্ষম হবে বলে মনে করি। সেই সঙ্গে প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করাও জরুরি।
এদিকে চট্টগ্রামের পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের প্রেসিডেন্ট শরিফ চৌহান ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে নমুনা সংগ্রহ ও ফলাফল প্রদান করাকে কেন্দ্র করে যে সংকট তৈরি হয়েছে , তা আক্রান্ত-অনাক্রান্ত সবার মনেই এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওয়েবসাইট তৈরি করে দ্রুত ফলাফল জানানোর সর্বোচ্চ ডিজিটাল সুবিধা তখনই আসবে, যখন চট্টগ্রামের মানুষ সহজেই নমুনা প্রদান করতে পারবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েবসাইটে ফলাফল জানতে পারবে।