ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিনাউটি ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে এক মুক্তিযোদ্ধার শিশুকন্যাকে ধর্ষণের বিচার-সালিশের মাধ্যমে শেষ করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামে এই বিচার সম্পন্ন হয়। সালিশে ধর্ষকদের মাত্র ২ লাখ টাকা জরিমানা করে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ৩ জুন সকালে সৈয়দাবাদ গ্রামের বাজারে একটি ভবনের ভিতর ধর্ষণের শিকার হয় একই গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার কন্যা। স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের আটকের চেষ্টা করলে ধর্ষক ঐ গ্রামের মৃত আবদুল হামিদ মিয়ার ছেলে চার সন্তানের জনক রাজমিস্ত্রি ইউছুফ মিয়া ও একই গ্রামের হেলু মিয়ার ছেলে দুই সন্তানের জনক রাজমিস্ত্রি সফিউল্লাহ মিয়া পলিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঐ দিনই ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে দুই জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এসে সরেজমিনে তদন্ত করে। তখন থেকেই একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক পর্যায়ে গত শনিবার এ নিয়ে সালিশ বসে সৈয়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে জনৈক বিল্লাল মেম্বারের বাড়িতে। সালিশে দুই ধর্ষককে ইজ্জতের মূল্য বাবদ ১ লাখ টাকা এবং থানায় মামলা উঠানোর জন্য ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সালিশে জরিমানা এবং মামলা উঠানোর টাকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার জন্য ধর্ষকদের পরিবারকে নির্দেশ দেন মাতবররা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রওনক ফারজানা বলেন, কোনো ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিচার বা জরিমানা করার কোনো নিয়ম নেই। আইনি প্রক্রিয়াই এর সমাধান হবে। এ সমস্ত বিষয় স্থানীয়ভাবে বিচার বা জরিমানা করার চেষ্টা করা বেআইনি কাজ।
এ ব্যাপারে কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তবে সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণ ঘটনার নিষ্পত্তি করা হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের ধরা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।