সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া বিলের পরিমাণ ১শ’ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন থেকে এই বিলগুলো আদায় না হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে দেরিতে হলেও এই বকেয়া টাকা আদায়ে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধূরী এখন হার্ড লাইনে। গতকাল বুধবার থেকে বকেয়া আদায়ে অভিযান শুরু হয় এবং প্রথমদিনেই ১০ লাখ টাকা আদায় হয়েছে বলে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান।
বকেয়া বিল আদায়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে পৃথক তিনটি কমিটি। কমিটির দায়িত্বে আছেন- সিসিকের সচিব মো. বদরুল হক, আরেকটিতে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান আর অন্যটিতে নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর।
সূত্র মতে, এই বকেয়ার মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিল বোর্ড বাবদ ফিস। বিগত কয়েকবছর আগে থেকে শুরু হওয়া বকেয়া আদায়ে বার বার নোটিস প্রদান সত্ত্বে্ও বিল পরিশোধ না করায় বকেয়া বিল আদায়ে মাঠে নেমেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
সিসিক সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের মূল আয়ের খাত হোল্ডিং ট্যাক্স খাতে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ২০ কোটি টাকা, পানির বিলের ১২ কোটি টাকা এবং বিল বোর্ড বাবদ বিলের বকেয়ার পরিমাণ ১ কোটি টাকা। সিসিকের আয়ের এই চারটি মূল খাতেই বকেয়ার পরিমাণ ১শ’ কোটি টাকা হওয়ায় বকেয়া আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সিসিক। বকেয়া বিল আদায়ে সিসিক বারবার গ্রাহকদের নোটিস কিংবা হুঁশিয়ারি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই সিসিক নিজেই মাঠে নেমেছে বকেয়া আদায়ে।
অভিযানের অংশ হিসেবে বকেয়া বিলের বিরুদ্ধে গতকাল নগরীর লালদীঘিরপাড়, কাস্টঘর এবং মহাজনপট্টি এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে মেয়র আরিফের নেতৃত্বে অভিযান চালায় সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের টিম। এসময় বিভিন্ন গ্রাহক এবং প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া বিল দ্রত পরিশোধে হুঁশিয়ারি করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দ্রত বকেয়া বিল পরিশোধ করা না হলে এখন থেকে নিয়মিত অভিযানে জরিমানাসহ বকেয়া আদায় করা হবে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান পর্যায়ক্রমে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে চলবে।