ফেনীতে কিট সংকটের কারণে করোনার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ

ফেনীতে কিট সংকটের কারণে গত ৬ দিন ধরে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অক্সিজেন ব্যবহারসহ বিভিন্ন সমস্যাতো রয়েছেই। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করতে আসা মানুষ। দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত ১৮ জুন থেকে প্রয়োজনীয় বিটিএমের স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে যোগ হয়েছে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজে কিট স্বল্পতা। সেখানে কিট না থাকায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। নমুনা সংগ্রহের জন্য বিটিএম পেতে আরো ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে রোগী ও দর্শনার্থীদের রয়েছে চিকিৎসা না পাওয়ার তীব্র অভিযোগ। অক্সিজেন সংকট, চিকিৎসা সেবায় নেই ডাক্তার ও নার্স। 

এক রোগীর অভিভাবক বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট থাকায় তার বাবা নজরুল ইসলাম সবুজকে (৪৫) নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফেনীর সোনাগাজীর চরচান্দিায়া ইউনিয়নের মদিনা বাজার থেকে চিকিৎসা নিতে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কিন্তু চিকিৎসা না পেয়ে চোখের সামনেই মারা যেতে দেখেছেন তার বাবাকে। শ্বাসকষ্ট থাকার পরও তাৎক্ষণিক মিলছে না অক্সিজেন। রোগীর চিকিৎসায় আসছে না কেউ। তার দাবী প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পেয়ে মারা গেছে তার বাবা।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করতে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা জয়নাল আবদীনকে (৫৫) চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। স্বজনের দাবী, ঢাকাতে এমনিতেই প্রচুর রোগী, তারাও সেবা পেতে হিমসিম খাচ্ছে, এখান থেকে আমরা ওখানে গিয়ে কি করবো। সামান্য পরীক্ষার জন্য আমাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: রাণীশংকৈলে মারপিটে এক ব্যক্তির মৃত্যু

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, বিটিএমের অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে কিট সংকটের কারণে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা মানুষের করোনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় বিটিএম প্রেরণ করার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি সহসায় আমরা করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু করতে পারবো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জনের আইসোলেশন ওয়ার্ড। ২৩ জুন পর্যন্ত আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে ১১৩ জন রোগী। তারমধ্যে পুরুষ ৮১ জন, নারী ৩২ জন। এদের মধ্যে ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকিরা করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। এদিকে মে মাসের ১১ তারিখ থেকে ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজে শুরু হয়। এ পর্যন্ত ফেনী থেকে ১ হাজার ৭০টি নমুনা পাঠানো হলে ৮৪৯ টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৮২টি পজিটিভ। ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ২২১টি নমুনা।

ইত্তেফাক/এএএম