নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে গত ১০ বছর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের ৫ জন প্রার্থী যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন সেখানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের ৫ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জ আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৯ ভোট। অপরদিকে কাজী মনিরুজ্জামান মনির ধানের শীষে পেয়েছিলেন ৯৪ হাজার ৭২৬ ভোট। তাদের ভোটের পার্থক্য ছিল ৪৬ হাজার ৯৩৩ ভোট। ১০ বছর পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো তারা মুখোমুখি হয়েছিলেন। অথচ তাদের ভোটের পার্থক্য ছিল ২ লাখেরও বেশি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জ আসনে নৌকা প্রতীকে ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী পেয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৮ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনির পেয়েছেন ২১ হাজার ৪৮২ ভোট।
এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আড়াইহাজার আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলাম বাবু পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৩৫ ভোট। অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বদরুজ্জামান খসরু পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৬৭৫ ভোট। অর্থাত্ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন মাত্র ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আড়াইহাজার আসনে ১১৩ ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫২ ভোট।
অপরদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের অধ্যাপক রেজাউল করিম পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৪২ ভোট। অর্থাত্ কায়সার জয়ী হয়েছিলেন ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ আবারো চলে যায় ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সঙ্গে। ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সোনারগাঁ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁ আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টি দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৭ ভোট। অর্থাত্ লিয়াকত হোসেন খোকা বিজয়ী হয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সারাহ বেগম কবরী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মোঃ শাহআলম পেয়েছিলেন ১,৩৭,৮৩৪ ভোট। অর্থাত্ বিএনপির শাহআলম মাত্র ১ হাজার ৯১৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে পুনরায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা যুক্ত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় শামীম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ২১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতী মনির হোসেন কাসেমী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৮২ ভোট। অর্থাত্ শামীম ওসমান ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৪ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর ও বন্দর আসনে মহাজোটের লাঙ্গল প্রতীকের নাসিম ওসমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের অ্যাডভোকেট আবুল কালাম পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৬ ভোট। অর্থাত্ ওই নির্বাচনে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মাত্র ৪৭ হাজার ৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসিম ওসমান বিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান ইন্তেকাল করলে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছোট ভাই বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান। ওই উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি এস এম আকরাম নির্বাচন করলেও মহাজোট ইস্যুতে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরাম পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট। অর্থাত্ ওই উপ নির্বাচনে এস এম আকরাম পরাজিত হয়েছিলেন ১৬ হাজার ৭৪২ ভোটে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ১৭১ ভোটকেন্দ্রের লাঙ্গল প্রতীকের মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এস এম আকরাম পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৫২ ভোট। অর্থাত্ সেলিম ওসমান জয়ী হয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ১৯৩ ভোটের ব্যবধানে।