ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ২০ সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন

খুলনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস

করোনার বিরূপ প্রভাব

এনামুল হক, খুলনা অফিস

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে খুলনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। গত চার মাসের অধিকাংশ সময় দোকানপাট বন্ধ থাকার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ২০ সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মহানগরীতে স্টেশনারি, মুদিখানা, ছাপাখানা, গার্মেন্টস, কম্পিউটার, বই, ঘড়ি, জুয়েলারি, সু স্টোর, রেস্টুরেন্ট, সেলুন ও টি-স্টলসহ অর্ধ লক্ষাধিক ছোটো-বড়ো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুই লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তবে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত গত চার মাসে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে গেছে।

নগরীর স্যার ইকবাল রোডের উজ্জ্বল হেয়ার কাটিংয়ের মালিক উত্তম শীল বলেন, করোনার আগে দোকান থেকে তার প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু করোনার পর থেকে প্রায় চার মাস ধরে দোকান বন্ধ। এখন সাটার বন্ধ রেখে মাঝেমধ্যে দোকান খুললেও প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না।

নগরীর এ কে টাওয়ারের ম্যাস ফ্যাশনের মালিক আনিসুজ্জামান জানান, করোনার আগে তার দোকানে টি-শার্ট ও জিন্সের প্যান্টসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। প্রতিদিন তার দোকানে ১৪-১৫ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হতো। তবে, করোনার কারণে অধিকাংশ সময়ই মার্কেট বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও এক প্রকার বন্ধ। তিনি জানান, দোকান বন্ধ থাকায় তার দুজন কর্মচারীর মধ্যে একজনকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর একজন রেস্টুরেন্ট মালিকও কর্মচারী ছাঁটাইয়ের কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিসি) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও গ্রাফিক্স কম্পিউটারের মালিক শেখ শহীদুল হক সোহেল বলেন, জলিল টাওয়ারের কম্পিউটার মার্কেটসহ খুলনা মহানগরীতে প্রায় ১০০টি কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। এ সব দোকানে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা চার শতাধিক। কিন্তু করোনার কারণে কম্পিউটারের দোকান দীর্ঘ চার মাস ধরে বন্ধ। কম্পিউটার দোকান মালিকদের এসব কর্মচারীদের বেতন গুনতে হচ্ছে। এসব কর্মচারী বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষিত। সে কারণে ইচ্ছে করলেই কম্পিউটার দোকানের কর্মচারীদের ছাঁটাই করা যায় না। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির খুলনা অঞ্চলের সভাপতি এবং আর কে ট্রেডিং ও মার্কস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রেজাউল করিম বলেন, করোনার কারণে ইতিমধ্যে খুলনা মহানগরীর প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা চললে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে আরো ২০ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, খুলনায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ইতিমধ্যে কর্মহীন হয়ে গেছেন। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মফিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী তাদের কর্মচারীদের ছাঁটাই করতেও বাধ্য হয়েছেন।