সিপিডির সংলাপে বক্তাদের অভিমত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অধিক উত্পাদন সক্ষমতার ফলে সরকারের খরচ বাড়ছে। খরচ সাশ্রয়ে এই অতিরিক্ত সক্ষমতা থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করা দরকার। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ বিদ্যুত্ লাগতে পারে, সেটা বিবেচনায় এনে বিদ্যুতের চাহিদা একটি পুনর্মূল্যায়ন করার সুপারিশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল বুধবার বিদ্যুত্ খাতের বাজেট নিয়ে সিপিডি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এই সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, দেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অনুসারে বিদ্যুতের চাহিদার সম্পর্ক রয়েছে। সরকারের কাছে এর কোনো প্রাক্কলন আছে কি না, সে বিষয় ছাড়াও তিনি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর ভবিষ্যত্ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসব বিষয়ে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ভাড়া বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো আর রাখতে চাই না। গত বছর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদ্যুত্ খাতে বিদেশি অর্থায়ন আনতে ‘বিদ্যুত্ বন্ড’ ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
করোনার সময়ে বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে বেশি বিল করে ফেলা হয়েছে। এটা ভুল হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছি। নিকটস্থ বিদ্যুত্ অফিসে গেলেই বিল ঠিক করে দেবে। কাউকে অতিরিক্ত বিল দিতে হবে না।
প্যানেল আলোচক হিসেবে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম, সাবেক বিদ্যুত্ সচিব ড. মো. ফওজুল কবির খান, সে ডার সাবেক সদস্য সিদ্দিক যোবায়ের ও বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইমরান করীম বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের অতিরিক্ত সক্ষমতা অনেক পরিকল্পনা করা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত সক্ষমতা খরচও বাড়ায়। তাই এর ব্যবস্থাপনা ঠিক করা দরকার। তা না হলে বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপে। দেশে তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। করোনার সময়কালে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য কয়লাভিত্তিক জ্বালানি খাতে বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় সিপিডি। তাছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।