করোনাকালে আবাসিক সোসাইটিগুলোর ভূমিকা

রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে মতো কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ঢাকার রাজাবাজার এলাকা দিয়ে তা শুরু। এলাকাভিত্তিক লকডাউনে আবাসিক ও হাউজিং সোসাইটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেসব এলাকায় সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের কাছে নিশ্চয়ই স্থানীয় বাড়িওয়ালা বা ফ্ল্যাট মালিকদের যোগাযোগ নম্বর থাকে। একটু উদ্যোগী হলেই ঐ সোসাইটি বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের খবর সংগ্রহ করতে পারে। একইভাবে ফ্ল্যাট মালিকদেরও তথ্য জেনে  নেওয়া কঠিন নয়। সোসাইটি মানে নির্দিষ্ট কয়েকটি গলি নিয়ে এলাকা কর্ডন বা ঘেরা দিয়ে নিজেদের মতো করে চলা। যেখানে নির্দিষ্ট কিছু গেট দিয়ে ঐ এলাকার লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। এটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকে।

রাজধানীতে সাধারণত রাত ১১টার পর বিভিন্ন সোসাইটির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু পকেট গেটটি খোলা থাকে। ঐ সময় কেউ ঢুকতে চাইলে তাঁকে পরিচয় ও গন্তব্যের ঠিকানা বলতে হয়। এই কাজটিই যদি কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে দিনের বেলায়ও করা যায়, তাহলে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে অযাচিত লোক, ভ্যান, গাড়ি সোসাইটি এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। নিয়মিত খোঁজখবর রাখলে কোনো বাসায় কেউ করোনাক্রান্ত হলে তা সোসাইটি দ্রুতই জানতে পারবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঐ বাসাটিই লকডাউনের আওতায় আনতে হবে। অন্যসব বাসা নয়। কর্তৃপক্ষ তাঁদের লোকবল দিয়ে ভেতরের দোকানপাট, মসজিদ কিংবা বসবার মতো স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে কঠোর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে পারে সোসাইটিবাসীদের।

রাজধানীতে সোসাইটিগুলো তাদের সার্বিক কাজের জন্য সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সহযোগিতা চাইতে পারে। আবার ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সোসাইটিগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের আওতায়ও নিয়ে আসা যেতে পারে। এভাবে ঢাকার বাইরেও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব নয়।

বোরহান বিশ্বাস, খিলগাঁও, ঢাকা