বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ জুড়ে লকডাউন, সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা এবং সামাজিক দূরত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত পর্যায়ে শারীরিক দূরত্ব অন্তত তিন ফুট বজায় রাখা এবং মাস্ক পরা এখন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কতটা সচেতন হতে পেরেছি? আসলে আমাদের সচেতনতার হার হতাশাব্যঞ্জক। মানুষজনের রাস্তাঘাটে চলাফেরা, বাজারে কেনাকাটা, দোকানপাটে আড্ডা দেওয়ার দৃশ্য দেখলে মনে হয় না করোনা মহামারি চলছে। সাধারণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব (শারীরিক) দেখাই যায় না। মাস্ক ছাড়াই চলেন অনেকে, আবার মাস্ক থাকলেও তা নাকে-মুখে না দিয়ে কানে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা যায়। এদের সচেতন করতে না পারলে করোনা ভাইরাস আরো গতিশীল হবে সন্দেহ নেই। সমাজের একক ইউনিট হচ্ছে পরিবার। আমরা সবাই যেহেতু পরিবারের সদস্য, সেহেতু পরিবার-প্রধানরা করোনা প্রতিরোধে মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার ব্যাপারে উত্সাহিত করা। বাড়ির বাইরে বের হলে অবশ্যই যথাযথভাবে মাস্ক ব্যবহার করা। বাইরের মানুষের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া। হ্যান্ড সেনিটাইজার সঙ্গে রাখা এবং যথাযথভাবে ব্যবহার করা; বাড়ি ফেরার পর হাত ভালো করে সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া। পরিধেয় জামাকাপড় আধা ঘণ্টা সাবান-পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলার ব্যাপারে বুঝিয়ে বলা। এই কাজগুলো পরিবার-প্রধানের তত্ত্ব্বাবধানে করতে পারলে প্রতিটি পরিবার সুরক্ষিত থাকবে। আর পরিবার সুরক্ষিত থাকলে আমাদের দেশ হবে করোনামুক্ত। চলুন আমরা যারা পরিবারের প্রধান, তারা দয়া করে এই দায়িত্বটুকু পালন করি।
কামরুজ্জামান
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,
মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়, গাজীপুর