মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা

দেশে একদিনে মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। আরো ৩ হাজার ৪৬২ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৮২ জন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। এ তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার ৬ জন কম মারা গেছেন, তবে ৫০ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে আইসিডিডিআরবিতে শুরু হতে যাচ্ছে করোনা পরীক্ষা। ২৬ জুন থেকে সেখানে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। নমুনা দেওয়ার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল প্রতিষ্ঠানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ জুন থেকে আইসিডিডিআরবি এর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোভিড-১৯ এর টেস্ট শুরু হবে।   এজন্য http://covid19test.icddrb.org ওয়েবসাইট ভিজিট করে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি সন্ধ্যা ৬টার সময় খুলে দেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এই টেস্ট করানো যাবে। টাকা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড অথবা অনলাইন ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে। টেস্টের জন্য গলা এবং নাকের গভীর থেকে  থেকে শ্লেষ্মা সংগ্রহ করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

আইইডিসিআরের অনুমিত হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বাড়িতে থেকে চিকিত্সা নেওয়া রোগীদের মধ্যে আরো ২ হাজার ৩১ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৬৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩৪ জন হাসপাতালে এবং ৩ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৬টি পরীক্ষাগারে ১৬ হাজার ৪৩৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। নতুন যুক্ত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগার। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ০৭ শতাংশ। আর শনাক্তরোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৩ হাজার ১৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৬৩১ জনকে। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৯০৭ জন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।