করোনাকালের এক উদ্যোক্তার গল্প

করোনা প্রাদুর্ভাবে কয়েক মাস থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আর তাই শিক্ষার্থীদের হাতে এখন প্রচুর সময়। এই সময়ে কেউ অলসতার স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন, আবার কেউ বা এই সুযোগে পূরণ করে চলেছেন তাদের ছোট ছোট স্বপ্নগুলো। সীমিত পরিসরে হলেও চেষ্টা করছেন নিজেকে সাবলম্বী গড়ার। 

এমন এক উদ্যোক্তা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর আরিফা সুলতানা আঁখি। তিনি নাগেশ্বরী সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির তৃতীয় বর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামে। বাবা আজিজার রহমান একজন কৃষক। মা গৃহিনী। চার ভাইবোনের মধ্যে আঁখি তৃতীয়।

আঁখি জানালেন, নিজেকে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামের যুব উন্নয়ন থেকে ‘বেইজিং হাঁস’ পালনে প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু হাতে পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে নেওয়া প্রশিক্ষণ কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অবশেষে এই করোনাকালকেই সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়ে দেড়শ হাঁসের বাচ্চা নিয়ে যাত্রা শুরু।

আরও পড়ুন: কাঁঠাল চুরি করায় ১৫ বছরের কিশোরকে হত্যা

আঁখি জানান, এক দিন বয়সের বাচ্চা দিয়ে ১০ জুন খামার শুরু করেছেন। এখন বাচ্চাগুলোর বয়স পনের দিন। খামারটি চালু করতে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।  আরও তিনশ হাঁসের বাচ্চা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়ে আসবো। এভাবে দুই থেকে আড়াই মাস লালনপালন করে বাচ্চাগুলো বিক্রির উপযুক্ত হবে। আশা করছি ভালো মুনাফা হবে। এথেকে সংসারে সহযোগিতা করতে পারবো। আশা করি আমাকে দেখে গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েরাও উদ্যোগী হবে।

আঁখির বাবা মা জানান, মেয়েটার অনেক দিনের স্বপ্ন হাঁসের খামার দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। সবাই মেয়েটার জন্য দোয়া করবে, যেন সে পড়াশুনার পাশাপাশি লক্ষে পৌঁছাতে পারে। 

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এই দুর্যোগে ঘরে বসে না থেকে আঁখি যে সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সত্যি প্রশংসানীয়। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আঁখিকে সাধুবাদ জানাই। আমরা তার পাশে থাকবো। 

ইত্তেফাক/এসি