মধুপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে খুন হয়েছেন স্বামী আরশেদ। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার থলবাড়ী গ্রামে। খুনের ঘটনায় মধুপুর থানায় গত বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। আসামীরা হলেন নিহতের স্ত্রী রেহানা পারভীন। ভায়রা ভাই তথা কথিত প্রেমিক আব্বাস আলী, শ্বশুর আবুল হোসেন ও শ্যালক স্বপন আলী।
নিহত আরশেদের বাড়ি মধুপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। বাবা মৃত আবুল বাশার। মামলার বাদী মিজানুর রহমান জানান, বড় ভাই আরশেদ গাজীপুরের আনোয়ার ইস্পাত কোম্পানিতে চাকুরী করেন। সাত বছর আগে থলবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের দ্বিতীয় কন্যা রেহেনা পারভীনকে বিয়ে করেন। রোহান নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে তাদের। আরশেদ আলী চাকরীস্থলে অবস্থান করায় বড়বোন জামাই কেতনপুর গ্রামের আব্বাস আলীর সাথে পরকীয়ায় জড়ান রেহানা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। বেশ কবার সালিশ দরবার হলেও এরা পরকীয়া কার্যক্রম বন্ধ করেনি।। শেষ পর্যন্ত অবৈধ মেলামেশায় আরশেদকে প্রধান বাধা বলে মনে করে। তাই আরশেদকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয় দুজন। এমতাবস্থায় গত ১৮ মে অসুস্থতার অজুহাতে আরশেদকে গাজীপুর থেকে থলবাড়ীর শ্বশুরালয়ে ডেকে আনেন রেহানা । পরে ছক মোতাবেক গভীর রাতে আরশেদকে গলাটিপে হত্যা করেন। সকালে বিষয়টি জানাজানির ভয়ে ধামাচাপা দেয়ার জন্য আত্মহত্যার নাটক সাজনো হয়। আরশেদ আলীর শ্বশুর ও শ্যালক একাজে সহযোগিতা করেন। পরে বাড়ির কাছে সুপারি গাছে গলায় ফাঁস লাগানো লাশ হেলান দিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। এর মধ্যে রেহানা ও আব্বাস গা ঢাকা দেয়। গত বুধবার মধুপুর থানা পুলিশ ময়না তদন্তের রিপোর্ট পান। রিপোর্টে গলা টিপে হত্যার কথা বলা হয়। মধুপুর থানা ওসি তারিক কামাল জানান, তদন্ত না করে সবকিছু বলা যাচ্ছে না। তবে পরকীয়ার ঘটনায় খুন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আর খুনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য নাটক সাজিয়েছিল আসামীরা। রেহানা ও আব্বাসসহ চারজনকে আসামী করে থানায় খুনের মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামীও রয়েছে। আসামী গ্রেফতারের জন্য দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এদের পাকড়াও করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
ইত্তেফাক/আরএ