করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন ক্রিকেটাররা। নিজ গৃহে থাকলেও ক্রিকেটারদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল ইসলাম অপু ও সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এবং করোনা, স্বাস্থ্যবিষয়ে প্রতিনিয়তই বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের কাছে ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসার পরিমাণ বাড়ছে। তাই করোনাকালে ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করতে প্রযুক্তির দ্বারস্থ হচ্ছে বিসিবি। বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটারের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিই এখন বড় ভরসা। কারণ সরাসরি চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এখন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী জাতীয় দল এবং বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা প্রতিদিন নিজেদের শারীরিক অবস্থা জানাবেন বিসিবিকে।
‘কোভিড-১৯ ওয়েলনেস’ অ্যাপ ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার তথ্য জানাবে বিসিবিকে। বর্তমানে বিসিবির ব্যবহূত অ্যাথলেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের সঙ্গেই যুক্ত করা হচ্ছে এই অ্যাপ। যেই সফটওয়্যার ক্রিকেটাররা প্রতিদিনই ব্যবহার করেন জিম, রানিং, ফিটনেসের নানা তথ্য দিয়ে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানিয়েছে বিসিবি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ম্যানেজার নাসির আহমেদ নাসুর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিজেদের স্মার্টফোনে অ্যাপটি খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন ক্রিকেটাররা। যার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত থাকবে বিসিবি।
নাসু বলেছেন, ‘প্রতিদিনই কোভিড-১৯-এর লক্ষণ বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ক্রিকেটারদের। বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের সঙ্গে কাজ করে সম্মিলিতভাবে এসব প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। বিশাল তথ্যের এই ভান্ডারই ঝুঁকির সংকেত দিবে। নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের দেয়া তথ্য থেকে।’
মূলত করোনার কারণেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। নাসু বলেন, ‘করোনার বিস্তারের ফলে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে বিবেচনা করেই আমরা এটা তৈরি করেছি। খেলোয়াড়রা এরই মধ্যে তাদের তথ্য দেওয়া শুরু করেছে। খুব দ্রুত বা পরে অনুশীলন শুরু হলে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবে। কোভিড-১৯ ওয়েলনেস তখন ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে খুব সাহায্য করবে।’
অ্যাপের তথ্যের ভিত্তিতে ক্রিকেটারদেরও লাল, কমলা, সবুজ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। বিসিবির এম আই এস ম্যানেজার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের তথ্যগুলো অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে এবং ঝুঁকি বিবেচনায় লাল, কমলা, সবুজ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করা হবে। তার অনুশীলনের বিষয়টি সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে। যদি লাল ক্যাটাগরিতে কেউ চলে আসে তবে সংশ্লিষ্ট বিসিবি কর্মকর্তা ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে জানতে পারবেন।’