উপসাগরীয় অঞ্চলে সংক্রমিত ৪ লাখের বেশি মানুষ

উপসাগরীয় অঞ্চলভুক্ত দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ অতিক্রম করেছে। সংক্রমণ ফের বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটিতে এখন রাজ্যভিত্তিক লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আমেরিকার অঞ্চলগুলোতে এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

এক মাসেই দ্বিগুণ আক্রান্ত

উপসাগরীয় অঞ্চলভুক্ত ছয়টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গত প্রায় এক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে। তার পরও এসব দেশে কারফিউ তুলে দেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মধ্য মার্চে জারি করা রাতের কারফিউ বুধবার তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সৌদি আরবে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি হলেও কারফিউ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে।            জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, সংক্রমণের সংখ্যা এই অঞ্চলে ৪ লাখের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও রাজ্যভিত্তিক লকডাউন

নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট—এই তিন রাজ্যে নতুন কোয়ারেন্টাইন চালু করা হয়েছে। যেসব রাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ, সেখান থেকে এই তিন রাজ্যে ঢোকার পর ১৪ দিনের সেলফ আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিমের কিছু জায়গায় সংক্রমণ বাড়ছে ক্রমশ। নিউ জার্সির নিল মার্ফি বলেন, এই তিন রাজ্যে লোকে প্রায় নরক থেকে ফিরেছে। তারা আর সে অবস্থায় যেতে চায় না। এরই মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের একটি অনুমান বলছে, অক্টোবর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৮০ হাজার লোক মারা যেতে পারে। আমেরিকানরা যদি ৯৫ শতাংশ মাস্ক পরে, তবে মৃতের সংখ্যা হতে পারে ১ লাখ ৪৬ হাজার।

যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার এক দিনেই আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার। দেশটিতে ২৩ লাখের মতো রোগী পাওয়া গেছে এবং ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। যেসব রাজ্য কোয়ারেন্টাইনের অধীনে পড়বে—আলাবামা, আরকানসাস, আরিজোনা, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ও উটাহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি ডিরেক্টর মাইকেল রায়ান বলেছেন, আমেরিকার অঞ্চলগুলোতে এখনো সর্বোচ্চ বিপর্যয় ঘটেনি। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় যদিও পরিস্থিতি অনেক কঠিন। অনেক দেশে গত সপ্তাহের চেয়ে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ সংক্রমণ বেড়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্যে একটি নতুন করোনা ভাইরাসের টিকা স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৩০০ জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক রবিন শ্যাটক ও তার সহকর্মীরা এই পরীক্ষার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার খুলে গেছে, কিন্তু ওপরে উঠতে পারবেন আগামী সপ্তাহে।