মৃত্যুর আগে ভিডিওতে বলেন, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পুড়িয়েছে স্বামী

বরিশালের হিজলা উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় দুই সন্তানের জননী ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ইসরাত জাহান ইমাকে (৩০) হাত ও পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী। উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গবিন্দপুর গ্রামের টেকের বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ পায় মৃত্যুর আগে মায়ের মোবাইল ফোনে ভিডিও করা ঐ গৃহবধূর জবানি থেকে। হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদার জানান, ঘটনার বিষয়ে আগে কেউ থানায় অভিযোগ না করেই নিহত গৃহবধূকে দাফন করেছেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর পূর্বে হাসপাতালে শষ্যাশায়ী ঐ গৃহবধূর মায়ের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ডে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি উঠে এসেছে। ওসি বলেন, ভিডিও রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে গত ২১ জুন নিহতের পিতা শফিকুল ইসলাম মাসুম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের পাষন্ড স্বামী মহসিন রেজা, ভাসুর মোস্তফা বেপারী, শ্বশুর দেলোয়ার হোসেন বেপারী ও পরকীয়া প্রেমিকা শাহনাজ বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার বিষয়টি টের পেয়েই আসামিরা নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তিন নম্বর আসামি দেলোয়ার            হোসেন বেপারীকে গ্রেফতার করেছে হিজলা থানা পুলিশ।

নিহতের চাচা মাজহারুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মহসিনের সঙ্গে তার খালাতো বোন শাহনাজ বেগমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে মহসিন ও ইমার মধ্যে কলহ শুরু হয়। গত ১১ জুন বিকালে স্থানীয় শিপন ও রফিক নামের দুই যুবক অগ্নিদগ্ধ ইমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও স্ত্রীর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেনি মহসিন রেজা। ফলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। উলটো মহসিন তার শ্বশুরকে ফোন করে জানায়, গ্যাসের চুলায় অগ্নিসংযোগে ইমা মারা গেছে। পরবর্তীতে ইমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এবং পরবর্তীতে ঐ দিন রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ঐ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৮ জুন সকালে ইমা মারা যান। মৃত্যুর আগে ইমা তার ওপর নির্যাতন এবং পুড়িয়ে মারার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যান যেটির ভিডিও রেকর্ড করা হয়।

ভিডিওতে ইমা বলেন, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় মহসিন প্রথমে তাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়ার পর তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।