ডিজিটাল কেনাকাটা ও লেনদেনে ঝুঁকছে মানুষ

করোনার এই সময়ে ঘর থেকে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু লেনদেন তো করতেই হচ্ছে। থেমে থাকছে না জীবন। খাবারদাবার থেকে শুরু করে ওষুধপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন ডিজিটাল মানি বা নগদবিহীন লেনদেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এমন লেনদেন সহজ করে দিয়েছে মানুষের জীবন। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বজোড়া এখন বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন। পরিবর্তন ঘটছে পণ্যসেবার দাম পরিশোধের প্রক্রিয়ায়। করোনা মহামারির পরেও ভোক্তাদের ডিজিটাল উপায়ে কেনাকাটার এই অভ্যস্ততা স্থায়ী রূপ পেয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও।

গবেষক ও অর্থনীতিবদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ইত্তেফাককে বলেন, ভোক্তাদের মধ্যে নগদ অর্থে কেনাকাটা করার চেয়ে ই-কমার্স ও কন্ট্যাক্টলেস বা যোগাযোগবিহীন কিংবা নগদবিহীন লেনদেন দিনে দিনে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যেমন এসেছে, তেমনি নগদ লেনদেনের ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় আসছে। বাংলাদেশে অনেক ব্যাংকার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। স্বাভাবিক সময়েও মানুষের নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নগদ লেনদেনে নিরুত্সাহিত করতেই নানাবিধ প্লাস্টিক মানির প্রচলন হয়েছিল। এই অবস্থা ক্রমেই আধুনিকায়ন ও স্থায়ী রূপ পেতে যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্যান্য দেশেও আরো দ্রুতগতিতে বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন।

কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে মানুষের মধ্যে যেমন উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বেড়েছে, তেমনি সংক্রমণের ভয়, লকডাউনের প্রভাব ও ক্রেতার অভাবে অনেক স্টোর বা দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সেলসফোর্স শপিং ইনডেক্সের তথ্যমতে, এমন কঠিন সময়েও, অর্থাত্ চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডিজিটাল কমার্স বা অনলাইনভিত্তিক কেনাবেচার পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে মাস্টারকার্ড। সংস্থাটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ শতাংশ, ভারতে ৪৯ শতাংশ, চীনে ৫৫ শতাংশ ও জাপানে ৩৪ শতাংশ মানুষ ই-কমার্স মানে অনলাইনে কেনাকাটা করার পরিকল্পনার কথা জানান। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ৩৮ শতাংশ, ভারতে ৬৮ শতাংশ, চীনে ৫৭ শতাংশ ও জাপানে ৪০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা আজকাল স্টোর বা দোকানে গিয়ে কেনাকাটার কথা খুব কমই ভাবছেন।

মাস্টারকার্ডের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সন্দীপ মালহোত্রার মতে, ‘আমরা এখন ডিজিটাল কমার্স, অর্থাত্ প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যে ঝুঁকে পড়ছি। মানুষ নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখন প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। ফুড ডেলিভারি ও মুদি পণ্য কেনা থেকে শুরু করে টেলিমেডিসিন, কনফারেন্স আয়োজন, ফিটনেস কোর্স, লার্নিং এবং বিনোদন সব পণ্যসেবাই নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী ঘরে বসেই পেতে চায়। মানুষের এই চাহিদা ও প্রত্যাশা কোভিড-১৯ শেষ হওয়ার অনেক পরেও অব্যাহত থাকবে এবং তা অনলাইন বা ই-কমার্সের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ঝোঁক ও প্রবণতা জোরালো হবে।