১৩ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের প্যারাডাইস ক্যাবলস কারখানার শ্রমিকরা গত পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের নিচে অবস্থান করছেন। করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ঐ ভবনের নিচে অবস্থান করা শ্রমিকদের দূরত্ব বজায় রাখা তথা স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও উপেক্ষিত। কিন্তু পাওনা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এক ধরনের গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে।
ইস্যুটি দেখভাল করার দায়িত্ব মূলত শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই)। শ্রম ভবনেই ডিআইএফই কার্যালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে এর আগে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে ডিআইএফই মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দিলেও মালিকপক্ষ তা মানেন নি। সর্বশেষ শ্রমিকরা ঐ ভবনের নিচে অবস্থান নেওয়ার পর ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় শিল্পাঞ্চল পুলিশকে একটি চিঠি দিয়ে প্যারাডাইসের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য মালিকপক্ষ দায়ী। তারা কোনো সিদ্ধান্তও মানছে না। এ অবস্থায় ফোর্স করা ছাড়া উপায় নেই। তাদের ধরে আনার জন্য শিল্প পুলিশকে বলেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাইনি। পুলিশ না করলে আমরা কী করতে পারি। মামলাও করেছি। এর বাইরে আমাদের হাতে আর কোনো ক্ষমতা নেই।
যোগাযোগ করা হলে শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধান আব্দুস সালাম ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনাস্থল আমাদের অধীনে নয়। ফলে ডিএমপিকে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে গতকাল শ্রমিকরা শ্রম ভবন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, সংকটের সুরাহা করার বিষয়ে কারো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এ পরিস্থিতিতে আগামী রবিবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে শ্রমিকরা লাগাতার অবস্থানে বসতে চায় বলে জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, শ্রমিক নিলুফার ইয়াসমিন, আব্দুল কাইউম, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ ডালিম প্রমুখ।