করোনা মহামারির এই দুর্যোগকালে লঞ্চের ভাড়া না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই দাবি জানিয়ে বলেন, করোনা মহামারিতে কর্ম হারিয়ে নিদারুণ আর্থিক সংকটে থাকা জনগণের ওপর বর্ধিত লঞ্চ ভাড়া চাপিয়ে দেওয়া হলে তা হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র শামিল। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, যে কোনো সংকটে বা অজুহাতে দেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ালে তা স্বাভাবিক সময়েও কমানোর সক্ষমতা সরকারের নেই। করোনা মহামারিতে কাজ হারিয়ে সাধারণ মানুষ এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকটে নিপতিত। দিশেহারা সাধারণ গরিব মানুষজন তার শেষ সম্বলটুকু দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। কাজ না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলো থেকে গ্রামে ছুটছে। লঞ্চে এখনো স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রায় প্রতিটি রুটে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হলেও কোনো দেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো নজির নেই।
একই সঙ্গে এই সংকটকালে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে টোল-ইজারা বন্ধ রাখার দাবি জানান যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনকারী এই নেতা। বিবৃতিতে তিনি করোনা সংকটকালে গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল আমদানিমূল্যে সরবরাহ করে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের পাশাপাশি বাসের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে রাষ্ট্র ও সরকারকে দুর্যোগকবলিত বিপর্যস্ত সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।