পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন

বর্ধিত সময়ে ঢিলেঢালা ভাব

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউনের মেয়াদ বাড়লেও এলাকার অনেকেই তা মানছেন না। সবার মধ্যে এক ধরনের ঢিলেঢালা ভাব। দুই সপ্তাহ একরকম অবরুদ্ধ থেকে তারা যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এতদিন কম-বেশি নিয়ম মেনে চললেও এখন তাদের গা-ছাড়া ভাব। জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই নানা অজুহাতে তারা বাইরে বের হচ্ছেন। কোথাও কোথাও দল বেঁধে আড্ডাও দিচ্ছেন। এলাকার ভেতরের রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেড়েছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, ১৪ দিনে একবারও বাসা থেকে বের হননি। তবে এভাবে আর গৃহবন্দি হয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঘনত্ব বিবেচনায় ‘রেড জোন’ ঘোষিত পূর্ব রাজাবাজারকে ৯ জুন রাত ১২টা থেকে লকডাউন করা হয়। প্রথমে ১৪ দিনের কথা বলা হলেও শেষ দিনে এসে তা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এলাকা পুরোপুরি করোনামুক্ত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান। কাউন্সিলরের একান্ত সচিব মাসুদ হোসেন সুমন বলেন, রাজাবাজারে করোনার সংক্রমণ কমে আসছে। এর অর্থ হলো, লকডাউনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে স্বাস্থ্যবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লকডাউন আরো সাত দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা সবাইকে মেনে চলতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীরা এখনো প্রতিদিন মাইকিং করে এলাকাবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছেন। কেউ অযথা বাইরে এলে তাকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব রাজাবাজারের বড় মসজিদ, আমতলা ও সোনার তরী টাওয়ারসহ বিভিন্ন মোড়ে অনেক মানুষের জটলা। তাদের বেশিরভাগই শারীরিক দূরত্ব না মেনে কেনাকাটা করছেন। আর কয়েকজন রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে বা বন্ধ দোকানের সিঁড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। আগের দিনগুলোয় পুলিশের টহল ঘনঘন দৃশ্যমান হলেও গতকাল তেমন চোখে পড়েনি। বরং মসজিদের পাশের রাস্তায় পার্ক করে রাখা হয়েছিল গাড়ি। লকডাউন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও সাজার কোনো তথ্য মেলেনি।

দায়িত্বশীলরা জানালেন, প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের সতর্ক করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে লকডাউন বাড়ানোয় সবচেয়ে অখুশি হয়েছেন এলাকার মুদি দোকানি, ভাসমান সবজি বিক্রেতাসহ অন্য ব্যবসায়ীরা। কারণ দোকান বন্ধ থাকায় তাদের কোনো উপার্জন নেই। এতে তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। অবশ্য পাঁচ জন ভাসমান সবজি ব্যবসায়ীকে ভ্যানে করে পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম ও উেকাচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এলাকার একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করা সোহেল জানান, করোনার ছুটির শুরু থেকেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ। পরে তিনি হোটেলের সামনে সবজি বিক্রি শুরু করেন। অনেকদিন ধরে তাও বন্ধ। এভাবে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে।