হতাশা কাটিয়ে ইতিবাচক মুমিনুল

জান-ই-আলম

গত বছরের শেষ দিকে হুট করে টেস্ট দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন মুমিনুল হক। অধিনায়কত্বের শুরুতেই ভারতে বিধ্বস্ত হওয়ার তিক্ততা হজম করতে হয়েছে তাকে। বাংলাদেশের টেস্ট দলটা নিয়ে মনের কোণে অনেক ছক-পরিকল্পনা ছিল মুমিনুলের। সে সব বাস্তবায়নে চলতি বছরটা ছিল মোক্ষম সুযোগ। কিন্তু সেখানে রাজ্যের হতাশার ঢেউ বইয়ে দিল করোনা ভাইরাস।

করোনার পেটে বিলীন হয়েছে এখন অব্দি আটটি টেস্ট ম্যাচ। তাই ছয় মাস বাকি থাকলেও চলতি বছরে আর কোনো টেস্ট নেই বাংলাদেশের সূচিতে। পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেই বছর শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের।

টেস্ট অধিনায়ক, বিশেষজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে হতাশা গোপন করেননি মুমিনুল। অস্বাভাবিক এই পরিবেশে মানসিকভাবে শক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ বলেই এখন স্থগিত হলেও পরে এসব ম্যাচ খেলার আশা করছেন তিনি। নিজের মতোই টেস্ট বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার সাদমান ইসলাম, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহীদের ইতিবাচক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অধিনায়ক।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে টেস্ট খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। এই ফরম্যাটে দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনা, দলটাকে গড়ে তোলার সুযোগ ছিল। সবই ফিকে হয়ে গেছে করোনার থাবায়।

অধিনায়ক মুমিনুলের মতে, এতগুলো ম্যাচ স্থগিত হওয়া মানে দারুণ কিছু সুযোগ হাতছাড়া হওয়া। জানতে চাইলে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা হলো সুযোগ হাতছাড়া, দল হিসেবে বড় সুযোগ ছিল।, অধিনায়ক হিসেবে ৮টা টেস্টে অবদান রাখার সুযোগ ছিল। খারাপ তো লাগেই। এটা স্বাভাবিক। প্রত্যেকটা মানুষের কিছু প্ল্যান থাকে।’

আবার পুরোপুরি হতাশায় ডুবে থাকার পাত্র নন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘আবার খুব বেশি হতাশ হওয়াটা যৌক্তিক না। কারণ এটা বর্তমান অবস্থানের ওপর সব নির্ভর। আর এখন বর্তমান অবস্থানই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এখন না হলেও এসব টেস্ট পরে হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ এগুলো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।’

মুমিনুল-সাদমানদের মতো শুধু টেস্ট খেলেন যারা, তাদের চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল কয়েকগুণ। এই বছর আর লাল বলে খেলা নেই। করোনা পরবর্তী সময়ে আবার যখন শুরু হবে ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে, ততদিনে লাল বলে খেলার বিরতিটা এক বছরের বেশি সময় হয়ে যেতে পারে।

মুমিনুল মানছেন, এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমার তো মনে হয় এটা বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিবেশে তো পৃথিবীই কখনো পড়েনি। খেলতে না পারাটা হতাশার বিষয়। আপনি কখনোই এতদিন বসে থাকবেন না, যদি না দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনজুরিতে             পড়েন। টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে হতাশ হবে যে কেউ। আমার মনে হয় এখন মানসিকভাবে শক্ত থাকা উচিত। কারণ কারোই কিছু করার নেই এখানে। এটা যে যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে তত ভালো।’