সতীর্থ রহমান
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যোগব্যায়াম হতে পারে একটি উত্তম পদ্ধতি। নিয়মিত যোগাভ্যাসের ফলে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক, মানসিক, আত্মিক বিকাশ সাধনে যোগাসন মহৌষধের মতো কাজ করে। যোগব্যায়াম সুস্থদেহে দীর্ঘজীবন লাভের শিক্ষাই শুধু দেয় না, জীবনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করার পথও দেখায়।
আভিধানিক অর্থে যোগ শব্দের অর্থ ঐক্য; মিলন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘জীবনে জীবন যোগ।’ যোগাসন হলো যোগ সাধনায় উপবেশন বা উপবেশনের পদ্ধতি। যিনি পরিমিত আহার-বিহার করেন, পরিমিত কর্মচেষ্টা করেন, পরিমিত নিদ্রিত ও জাগ্রত থাকেন, তার যোগ দুঃখনিবর্তক হয়। মন স্বভাবত চঞ্চল, অতএব অস্থির হয়ে সেটা যে যে বিষয়ে ধাবিত হয়, সে-ই সে-ই বিষয় হতে সেটাকে প্রত্যাহার করে আত্মাতেই স্থির করে রাখবে।
নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্যাভাস পরিবর্তনের পাশাপাশি হূদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের লক্ষ্যে মেডিটেশন চর্চা করোনারি হূদরোগীদের ব্লকেজ দূর করতে সহায়তা করে। মেডিটেশনে বসে সুস্থ হূদযন্ত্রের কল্পনা হূিপণ্ডকে প্রাণবন্ত করার পাশাপাশি রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসে। একজন ব্যক্তি আত্মনিমগ্ন হয়ে তার হূদয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন, প্রথমবারের মতো কথা বলেন তাঁর হূদযন্ত্রের সঙ্গে। এরপর তিনি অনুভব করার চেষ্টা করেন তাঁর হূদরোগের পেছনে কী কী অনুষঙ্গ রয়েছে। সব কারণই সবার ক্ষেত্রে থাকে না। একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। ‘হূদরোগ নিরাময়’ মেডিটেশনে রয়েছে নিরাময়ের এক কল্পচিত্র যা ব্লকেজ দূর করতে কার্যকর। প্রতিদিন নিরাময়ের এ কল্পচিত্র বা মনছবি দেখে অসংখ্য মানুষ হয়েছেন হূদরোগমুক্ত। মেডিটেশনে রয়েছে হূিপণ্ডকে সুস্থ রাখার জীবনভ্যাস সম্পর্কিত গাইড লাইন যা প্রতিদিন অনুসরণীয়। এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি ছাড়া হূদরোগ নিরাময়ের পরীক্ষিত পদ্ধতি অনুসরণ করে সুস্থ সফল সুখী মানুষে পরিণত হওয়া সম্ভব।
বন্ধন আর মুক্তি। বাসনা, অজ্ঞান ও ভেদদৃষ্টি—এই তিনটির বন্ধন। জীবনে অনাসক্তি, জ্ঞান ও সমদর্শিতা এই তিনটি মুক্তি। জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ আর ভক্তিযোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হোক সবার জীবন।
দিনাজপুর