রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালেই পর্যাপ্ত বেড এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খালি আছে। রাজধানীর হাসপাতাল-গুলোতে ৮৩টি ও সারাদেশের কোভিড হাসপাতালে ১৯৬টি আইসিইউ এখনো খালি রয়েছে। খালি থাকা আইসিইউয়ের সংখ্যা কোভিড হাসপাতালগুলোর মোট আইসিইউয়ের প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে ঢাকাসহ সারাদেশের কোভিড হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডেরও তিন ভাগের দুই ভাগই খালি রয়েছে।
নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল শুক্রবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরে এ কথা বলেন। এদিকে একদিনে আরো ৪০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৬১ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৮৬৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৪ জন।
আইইডিসিআরের অনুমিত হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বাড়িতে থেকে চিকিত্সা নেওয়া রোগীদের মধ্যে আরো ১ হাজার ৬৩৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ১৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। ১৮ জুন দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩১ জন হাসপাতালে, ৯ জন বাড়িতে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে এক জনের বয়স ১০ বছরের নিচে, আর এক জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া তিন জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিন জনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ছিল। বিভাগওয়ারী হিসাবে ১৪ জন ঢাকার, ১২ জন চট্টগ্রামের, চার জন খুলনার, চার জন বরিশালের, তিন জন সিলেট এবং তিন জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৬টি পরীক্ষাগারে ১৮ হাজার ৪৯৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪১টি।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য ঢাকা মহানগরে ১৬টি হাসপাতালকে বিশেষায়িত (কোভিড ডেডিকেটেড) করা হয়েছে। এর বাইরেও ঢাকা জেলায় আরো একটি হাসপাতাল বরাদ্দ রয়েছে। ঢাকা মহানগরে যেসব কোভিড হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলোতে মোট সাধারণ বেড রয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ রয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে সাধারণ বেডে কোভিড রোগী ভর্তি আছে ২ হাজার ৩৭৫ জন। আর আইসিইউতে ভর্তি আছেন ৯৭ জন। এ হিসেব অনুযায়ী, ঢাকার কোভিড হাসপাতালগুলোতে ৪ হাজার ৩৯৮টি বেড খালি রয়েছে, যা মোট বেডের ৬৪ দশমিক ৯৩ ভাগ বা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। একইভাবে খালি থাকা আইসিইউয়ের সংখ্যা ৮৩টি, যা মোট আইসিইউয়ের ৪৬ দশমিক ১১ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক। এদিকে, সারাদেশের সব বিভাগের তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুলেটিনে জানান, সব বিভাগ মিলিয়ে কোভিড হাসপাতালগুলোতে সাধারণ বেড রয়েছে ১৪ হাজার ৬১০টি। এসব বেডে ভর্তি আছেন ৪৬৯১ জন। আর সারাদেশের কোভিড হাসপাতালে মোট আইসিইউ রয়েছে ৩৭৯টি। এর মধ্যে ১৮৩টি আইসিইউয়ে কোভিড রোগী ভর্তি রয়েছে। এ হিসেবে সারাদেশের কোভিড হাসপাতালে ৯ হাজার ৯১৯টি বেড এখনো খালি রয়েছে। আর আইসিইউ এখনো খালি রয়েছে ১৯৬টি। অর্থাত্ সারাদেশের কোভিড হাসপাতালের ৬৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাধারণ বেড খালি রয়েছে। আর আইসিইউ খালি রয়েছে ৫১ দশমিক ৭১ শতাংশ বা অর্ধেকেরও বেশি।