সবজি বাজার আগুন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর সবজি বাজারে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। পেঁপে থেকে করলা—প্রায় সব ধরনের সবজির দামই চড়া। অথচ এক মাস আগেও সবজি বিক্রি করে চাষিরা উত্পাদন খরচই তুলতে পারেননি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মাছ, মাংসের দামও বেশি। এ অবস্থায় বেশির ভাগ মানুষ সবজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন এ সময়ে বাজারে অন্যান্য সময়ের তুলনায় সবজির সরবরাহ একটু কম থাকে। সবমিলিয়ে সবজির ওপর চাপ পড়েছে। এসব কারণে দাম বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই। বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টম্যাটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা, চিচিঙ্গা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, কাঁচামারিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির তুলনায় আলুর দাম কিছুটা কম। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। তবে গত এক মাসের ব্যবধানে তা কেজিতে পাঁচ টাকা বেশি। এছাড়া লাউ, কুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বেশি প্রসঙ্গে তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, করোনার সময় অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাকে তো ঠিকই খেতে হয়। তিনি বলেন, একদিকে সবজির ওপর চাপ পড়েছে, অন্যদিকে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এই সবজি ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহে দেশে টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে অনেক সবজিখেতের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এরও প্রভাব পড়েছে সবজির দামে।

এদিকে সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ডিমেরও। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এ সপ্তাহে মোটা চাল ইরি/স্বর্ণার দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল, মিনিকেট কেজিতে দুই টাকা কমে ৫২ থেকে ৬৫ টাকায় ও মাঝারি মানের চাল পাইজাম, লতা ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেছে পেঁয়াজেরও। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।