মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামে শুক্রবার বিকালের ছেলের বটির কোপে মা তাসলিমা বেগম (৪২) খুন হয়েছেন। ছোট বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর জখম শামসুন নাহারকে (৫০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক মানিক তালুকদারকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।
টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি হারুন-অর-রশীদ জানান, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অপহরণ মামলার পলাতক আসামি। ২০১৫ সালে প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়। সে মামলায় মানিক দীর্ঘ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব নানা কারণে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। পুরাপাড়া গ্রামে নানা বাড়িতে পলাতক ছিল মানিক। পাশের নেত্রাবতী গ্রামের দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে মানিক। নেত্রাবতী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ছেলে মানিকের জন্য খাবার নিয়ে বাবার বাড়ি আসেন তাসলিমা বেগম। রান্না ঘরে খাবার সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বটি দিয়ে মাকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে ছেলে মানিক। চিৎকার শুনে বড় বোন শামসুন নাহার রক্ষা করতে আসলে তাকেও কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটয়ে পড়ে দু’বোন। পরে আশপাশের লোকজন মানিককে আটক করে পুলিশের খবর দেয়। আর জখম দু’বোনকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাসলিমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। তাসলিমার পেটে, পাজরে, পিঠে ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত বটির ছয় কোপ লেগেছে। আর শামসুন নাহারের কপালে ও পিঠে বটির কোপ লেগেছে। গুরুতর জখম অস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলছে, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি জানান, এই ঘটনার পর নিজের গলায় বটি চালিয়েও আত্মার চেষ্টা করছিলেন মানিক। তবে তিনি অক্ষত আছেন।
ইত্তেফাক/কেকে