তিস্তায় বিলীন হচ্ছে পাকা রাস্তা

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

ভাঙনে পাকা রাস্তা চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে। সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় সদ্যনির্মিত পাকা রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গঙ্গাচড়া সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোলকোন্দ ইউপি বিনবিনা ফেরিঘাট হতে আবুলিয়া কালীগঞ্জ উপজেলা সীমানা হয়ে তুষভান্ডার ইউপি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়। যা গত ৫ মার্চ উদ্বোধন করা হয়েছিল।

জানা যায়, ১৬ বছর আগে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় ৩ হাজার ৩০০ ফুট লম্বা এ বাঁধটি স্থানীয়ভাবে দেওয়া হয়। যাতে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, বাগেরহাট, ইচলিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষা পায়। হুমায়ুন চেয়ারম্যানের সময় বাঁধটি নির্মাণ করা হয় বলে হুমায়ুন বাঁধ বলেও পরিচিত। স্থানীয়ভাবে বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হয়। গত দুই বছরে বাঁধটির কয়েক হাজার ফুট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সেই বাঁধের ওপর নির্মাণ করা হয় পাকা রাস্তা। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি রক্ষার জন্য নদী থেকে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ডাম্পিং এবং পানির গতিপথ পরিবর্তনের জন্য নদীতে ক্যানেল খনন করলেও কাজ হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরন্নবী ভুট্টু বলেন, আগের বাঁধটি তো গেছে। পাকা রাস্তার ২০০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু পাকা রাস্তা ভাঙনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, বাঁধটি রক্ষার জন্য স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা করলাম। ঠেকানো গেল না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী এ জেড এম আহসান উল্লা বলেন, তিস্তায় ভাঙলে তো আমাদের করার কিছু নেই। আমি নিজে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাঁধটি রক্ষার জন্য পানির গতিপথ পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু ক্যানেল খনন করলেও কোনো কাজ হয়নি। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, বরাদ্দ না থাকার কারণে এই মুহূর্তে কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে।