হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
সিলেট বিভাগের করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। মৃত্যুর সংখ্যাও ৬০ পেরিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ বিভাগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯১০ জন। এ বিভাগে মোট মারা গেছেন ৬৩ জন। এর মধ্যে সিলেটেই ৪৮ জন। অথচ হাটবাজারে মানুষের সচেতনতার অভাব সেই শুরু থেকেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটকে ‘রেড জোন’ এর আওতায় আনা হয় বেশ আগে থেকেই। কথা ছিল সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৯ ওয়ার্ডকে কঠোর ‘লক ডাউন’ এর আওতায় আনা হবে। এই অবস্থায় গত সপ্তাহে সাধারণ মানুষও হুমড়ি খেয়ে পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে। ‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি’ সে সময়ে পর পর বেশ কয়েকটি সভাও করে। কিন্তু ১০ দিন পার হয়ে গেলেও সিলেটে ‘লক ডাউন’এর দেখা নেই।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও করোনা মোকাবিলায় জেলা মাল্টিসেক্টরাল কমিটির সভাপতি কাজী এম এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, সিলেটে জোনভিত্তিক লকডাউনের জন্য এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। কিছু কিছু ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে যে প্রচারণা হচ্ছে তাতে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় জোন নির্ধারণ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সিভিল সার্জনের কার্যালয় এবং সিটি করপোরেশন জোন নির্ধারণ করে তালিকা জমা দিয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো সরকারের কোনো নির্দেশনা আসেনি।
এদিকে সিলেট করোনা ডেডিকেটেড আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ রাখতে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতির ভেন্টিলেশন সিস্টেম ‘হ্যাপা ফিল্টার সিস্টেম’। এই ফিল্টার মেশিন প্রতি মিনিটে ৬০ বার বাতাসের মাধ্যমে করোনার জীবাণু গ্রহণ করে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবাহিত করে। এর মাধ্যমে ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ হয়। সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এ ফিল্টারটি সিটি করপোরেশনকে প্রদান করলে, সিসিক এটি শহীদ শামসুদ্দিন করোনা হাসপাতালে স্থাপন করে দেয়। হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, হ্যাপা ফিল্টার আইসিইউয়ের মধ্যে নেগেটিভ প্রেসার তৈরি করে। যার ফলে সেখানে কোনো জীবাণু থাকতে পারে না। ফিল্টারটি জীবাণু গ্রহণ করে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবাহিত করে। এই ফিল্টার আইসিইউতে স্থাপন করায় সেখানে সেবা দেওয়া চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি অনেক কমেছে।