প্রণোদনা না দিলে ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেসব ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করবে না, সেখানে থাকা সরকারের আমানত তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে ঐ সব ব্যাংকের ওপর বাড়তি কর আরোপ এবং যেসব ব্যাংক এই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করবে, সেখানে সরকারের আমানত বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তবে কোনো ঋণখেলাপির পক্ষে এফবিসিসিআই ঋণের জন্য সুপারিশ করবে না বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রণোদনা নিয়ে একটি শ্রেণি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারল্যসংকটের কারণে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার আওতায় ঋণের অর্থ দিতে পারছে না বলে বলা হলেও এর সঙ্গে একমত নন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে তারল্য বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ঈদের আগেই ব্যাংকগুলোতে ৭০ হাজার কোটি টাকা নতুন তারল্য সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংককাররা আমাদের সঙ্গে (এফবিসিসিআই) সভায়ও বলেছেন, কোনো তারল্যসংকট নেই।’ এ সময় জানানো হয়, এসএমই খাতের জন্য প্রণোদনার আওতায় বরাদ্দ হওয়া ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে গত দুই মাসে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আয়কর ও ভ্যাটের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথা তুলে ধরে বাজেট পাশের সময় এসব বিষয়ে সংশোধনের দাবি জানায় এফবিসিসিআই। বিশেষত অগ্রিম আয়কর, ভ্যাটের অধীনে আগাম কর এবং ন্যূনতম করব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভ্যাটসংক্রান্ত বিরোধের আপিলে অগ্রিম প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা, কমিশনারের অনুমতি ছাড়াই নিচের সারির কর্মকর্তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযানের অনুমতি দেওয়া, আমদানিকৃত পণ্য চার মাসের মধ্যে ব্যবহারের শর্ত, বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ আসার পাঁচ দিনের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দেওয়ার শর্ত, ভ্যাট রেয়াতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পণ্যকে তালিকার বাইরে রাখাসহ বেশ কিছু ইস্যু ব্যবসায়ে জটিলতা তৈরি করবে। এসব সিদ্ধান্ত স্বছতা ব্যাহত করবে এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে।

তিনি বলেন, এনবিআরের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে ব্যবসাবান্ধব করার চাইতে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়ায় ব্যাপারে আগ্রহী। অতীতে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনলাইনেও বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ী নেতা ও সাংবাদিক যুক্ত হন।