পঞ্চগড়ের টুনিরহাট বাজারের ৭টি দোকান ভাংচুর করে ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাটবাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
জেলার বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান শ্যামল প্রায় দুই শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা দা বল্লম নিয়ে এসে দিনে দুপুরে ওই বাজারের ৭টি দোকানের সাটার (ঝাঁপ) ভেঙ্গে মালামাল ট্রাক্টরে করে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকশত লোক এসব দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের দৃশ্য দেখলেও কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি।
দোকানের মালিক জেলার সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনার রহমান ও তার ৭ ভাই এ সময় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
দোকানের মালিক আমিনার রহমান বলেন, '২০০০ সাল থেকে সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘি ইউনিয়নের টুনিরহাটের ওই খাস জমির ওপর দোকান করে আসছি। পরে তা হাট পরিধির অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। আমরা নিজেরাও দোকান করি এবং কয়েকটি দোকান ভাড়া দেই। হাটের ওই জমিটি আমার ভাই আমিরুল ইসলামের নামে আছে। এই জমিতে মোট ৭টি দোকানঘর আছে। ১৮ বছর ধরে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন দোকান করে আসছি।'
আমিরুল ইসলাম জানান, 'আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান শ্যামল এই জমিটি ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করে আদালতে ৩টি মামলা দায়ের করে। ৩টি মামলার মধ্যে দুটিই খারিজ হয়ে যায়। একটি মামলা আদালতে চলমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ শ্যামল ২/৩শ লোক নিয়ে টুনিরহাটে এসে ৭টি দোকানের মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দিয়ে টিভি শোরুম, মোবাইল শোরুম, বেকারী, ফ্ল্যাক্সিলোড, গোডাউনসহ ৭টি দোকানের সাটার ভাঙচুর করে এবং দোকানের মালিকদের বের করে দিয়ে দোকানের সমস্ত মালামাল ট্রাক্টরে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পঞ্চগড় থানার পুলিশসহ কয়েকশত মানুষ উপস্থিত ছিল। কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।'
দোকানের আরেক মালিক আমিনার রহমান জানান, '৭টি দোকান থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ওই নেতা ও তার লোকজন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।'
মোবাইলের দোকানদার বাবুল হোসেন জানান, ‘আমার দোকানে ৫ লাখ টাকার মোবাইল ছিলো। আমি ২০ মিনিট সময় চেয়েছিলাম। উল্টো আমাকে ছুরি দিয়ে মারার চেষ্টা করলে আমি ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাই। ওরা আমার সব মালামাল নিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। বাকিতে এই মাল নিয়ে এসেছি। টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এ চিন্তা করছি।'
আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান শ্যামল জানান, 'এই জমির মালিক আমরা। আমার বাবা এই জমিটি ক্রয় করেছিলেন। দোকানঘরগুলোও আমাদের করা। বিএনপি নেতা আমিনার একটি দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমিনার পুরো জায়গাটি দখল করে নেয়। আমাদের জায়গা আমরা দখল করেছি।'
দোকানের মালামাল লুট করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এ প্রশ্নের তিনি কোন জবাব দেননি।
তবে পঞ্চগড় থানার এসআই আব্দুল জোব্বার সরকার বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই শ্যামল দোকানপাট ভাংচুর করে মালামাল নিয়ে গেছে।'
আরও পড়ুনঃ রংপুরে পৃথক ঘটনায় ২ জন খুন
পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আক্কাছ আহম্মদ বলেন, 'টুনিরহাট বাজারে দোকানপাট ভাঙচুর হচ্ছে এমন খবরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ইত্তেফাক/নূহু