অ্যাপের পরিসর বাড়াবে বিসিবি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ

স্পোর্টস রিপোর্টার

মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাজমুল হাসান অপু, জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই দুশ্চিন্তা থেকে সার্বক্ষণিক ক্রিকেটারদের খোঁজ রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। আপাতত জাতীয় দলের আশপাশের জনা চল্লিশেক ক্রিকেটার এই অ্যাপের আওতায় আছেন। তবে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, তারা এই অ্যাপের পরিসর আরো বাড়াতে চাচ্ছেন।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী জাতীয় দল এবং বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা প্রতিদিন নিজেদের শারীরিক অবস্থা জানাচ্ছেন বিসিবিকে। ‘কোভিড-১৯ ওয়েলনেস’ নামের অ্যাপ ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার তথ্য জানাচ্ছে বিসিবিকে। বর্তমানে বিসিবির ব্যবহূত অ্যাথলেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের সঙ্গেই যুক্ত করা হয়েছে এই অ্যাপ। যেই সফটওয়্যার ক্রিকেটাররা প্রতিদিনই ব্যবহার করেন জিম, রানিং, ফিটনেসের নানা তথ্য দিয়ে।

প্রতিদিন এই অ্যাপে ঢুকে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আটটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। সেখানে তার শরীরের অবস্থা, লক্ষণ বিবেচনা করে তাকে সফটওয়্যর মার্কিং করে। কারো করোনার কোনো লক্ষণ থাকলে তাকে লাল চিহ্ন দিয়ে দেওয়া হয়। আর সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন থাকলে তাকে হলুদ চিহ্ন দেওয়া হয়। আর কোনো সমস্যা না থাকলে সবুজ।

এখন প্রতিদিন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে নিয়মিত এই অ্যাপের সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন ডক্টর দেবাশীষ, ‘ক্রিকেটাররা ভালো রেসপন্স করছে। তারা প্রতিদিনই নিয়ম করে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। আমরা প্রতিদিন জানতে পারছি, কার শারীরিক অবস্থা কী। সেই অনুযায়ী ওদের সঙ্গে আমরা আবার কথা বলছি।’

ডক্টর দেবাশীষ মনে করেন, তারা আরো বেশি ক্রিকেটারকে এই অ্যাপের আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। আর সেজন্যই এখন কাজ হচ্ছে বলে তিনি জানালেন, ‘আমরা চাচ্ছি আরো অনেক ক্রিকেটারকে এই ব্যাপারটার আওতায় আনতে। কারণ বেশি ক্রিকেটারদের সম্পর্কে জানা গেলে সেটা আমাদের জন্য ভালো। আমরা সেটাই করতে চাই।’

এখন অ্যাপে কারো নামে লাল মার্কিং এলেই চিকিত্সকদের কাছে আবার সতর্কবার্তা চলে যাচ্ছে। সেটা দেখে চিকিত্সকরা আবার ঐ ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলছেন। বুঝতে চেষ্টা করছেন, আসলেই কোনো সমস্যা কি না। এই ব্যাপারটায় অবশ্য অ্যাপসের একটা সীমাবদ্ধতা দেখছেন ডক্টর দেবাশীষ।

কোনো ক্রিকেটার সামান্য মাথাব্যথার জন্য উত্তর ‘হ্যাঁ’ দিলেও তাকে লাল মার্ক করে দেওয়া হচ্ছে। পরে ফোন করে হয়তো জানা গেল, এটা সাধারণ মাথাব্যথা। এই ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করতে চান দেবাশীষ, ‘মাথাব্যথা বা লুজ মোশনও করোনার লক্ষণ। এখন এগুলো কারো থাকলে লাল মার্ক হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন দেখতে চাচ্ছি যে, ওদের সঙ্গে আলাপ করে নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা এটাকে সবুজ করে দিতে পারি কি না। এগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’