সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া এবং নারী ফুটবলের আরেক তারকা স্ট্রাইকার অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এই দুই জনকে এবার ফুটবলের তৃণমূলে কাজ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। দেশের চারটি স্থানে বাফুফের টার্ফ স্থাপন করা আছে। সেখানে তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের উন্নয়ন কার্যক্রমে জামাল এবং সাবিনাকে বাফুফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর করা হয়েছে।
নীলফামারী, মাদারীপুর, ফেনী এবং ঢাকায় ফিফার দেওয়া মিনি ফুটবল টার্ফ রয়েছে। এই টার্ফের আরো অধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তৃণমূলের ফুটবল আগ্রহীদের কাজে লাগাতে দারুণ একটা সুযোগ বলে মনে করছে বাফুফে। ফুটবল প্রশিক্ষণ হবে সেখানে। তারকা দুই ফুটবলার চারটি স্থানে গিয়ে অন্যদেরও ফুটবলে সম্পৃক্ত করবেন। ফুটবলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য প্রেসক্রিপশনটা অনেক আগেই দিয়েছিল এএফসি। কিন্তু সেটা কাজে লাগানোর সময় পায়নি, বাফুফের অজুহাত। দেরিতে হলেও এএফসির চার্টার অনুসরণ করে এএফসি গ্রাসরুট অ্যাম্বেসেডর প্রকল্পের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাফুফে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন, এএফসিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে গ্রাসরুট ফুটবলের কাজ হয়। গোল্ড, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ। এই তিনটি ক্যাটাগরির মধ্যে জাপান, কোরিয়া, হংকংয়ের মতো দেশগুলো গোল্ড ক্যাটাগরিতে থাকলেও বাংলাদেশ কোনোটাতেই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কারণটা জানিয়ে সোহাগ বললেন, ‘আমরা আসলে সময় পাইনি। ডিসেম্বরেই আবেদন করব।’ এখন কিভাবে উদ্যোগী হলো বাফুফে? সোহাগ বললেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টের হাসান গিয়েছিলেন এএফসির সেমিনারে। সেখানেই গ্রাসরুটের এই বিষয়টি এএফসি পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরেছে এবং লাভ-ক্ষতিটাও বুঝিয়েছে। এটা আসলে এএফসির চার্টারেই রয়েছে গ্রাসরুট অ্যাম্বেসেডর করে কিভাবে ফুটবলের সুবিধাটা আদায় করা যায়। ২৮টি দেশ রয়েছে তালিকায়।’
জামাল এবং সাবিনা মাঠের খেলার পাশাপাশি অন্যদেরও মাঠে আসতে সরাসরি কাজ করবেন। যাদের দেখে মাঠবিমুখ ফুটবলারও মাঠের দিকে পথ খুঁজতে পারে। অধিনায়ক জামাল ভুইয়া অনলাইনে বলেছেন, ‘আমাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর করায় আমি গর্বিত। আমি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করবো। আমার জন্য এটা খুশির খবর।’
বাফুফেকে ধন্যবাদ জানিয়ে নারী অধিনায়ক সাবিনা বললেন, ‘আমার লক্ষ্য থাকবে গ্রাসরুট ফুটবলকে আরো সমৃদ্ধ করা। দেশের ফুটবল এভাবে এগিয়ে যাক সেই চেষ্টায় আমিও কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
এই প্রকল্পে মুলত বাফুফের কোচরাই অনুশীলন করাবেন। যা দেখে তৃণমূলে লুকিয়ে থাকা ফুটবল প্রতিভাগুলো আলোর মুখ দেখবে। ফুটবলে নতুন মুখের সন্ধানও পাওয়া যাবে। এখানে ডিএফএর সংগঠকরাও সম্পৃক্ত হবেন।