উপকথা

মালয়ালম লোককাহিনি কচ্ছপের বন্ধু

 

ভারতের তামিল রাজ্যের এক ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামের এক মস্ত পুকুরে ছিল এক কচ্ছপ। আর পুকুরের কাছে এক গর্তে এক শেয়াল। জলে-ডাঙায় দুই প্রাণীর মাঝে বেশ ভাব।

একদিন পুকুরপাড়ে শেয়াল-কচ্ছপ গল্প করছিল। আচমকা সেখানে শোনা যায় এক বাঘের গর্জন। শেয়াল তো এক দৌড়ে উধাও। আর বেচারা কচ্ছপ! ছোট্ট ছোট্ট পায়ে লুকোবার শক্তিই বা কতটুকু! বাঘ এক নিমিষে কচ্ছপকে মুখে পোরে। আর গাছতলায় বসে মজা করে কচ্ছপকে খাওয়ার কথা ভাবে। এমনটা টের পেয়ে কচ্ছপ পুরো শরীর শক্ত খোলে লুকিয়ে ফেলে। বাঘ ধারালো দাঁত-নখ দিয়ে কচ্ছপের শক্ত খোল কেবলই আঁচড়ায়। নরম মাংসের লোভে বনরাজ কী চেষ্টাই না করছে!

লুকানো শেয়াল বাঘের নিষ্ফল গর্জন শোনে। আর ছোট্ট বন্ধু কচ্ছপকে বাঁচাবার এক বুদ্ধি আঁটে। শেয়াল গুটি গুটি পায়ে বাঘের কাছে হাজির হয়। ভারি নরম গলায় বলে, ‘মহারাজ, কচ্ছপের খোল ভাঙার একটা উপায় আছে। এখনই ওটাকে পানিতে ফেলুন। অল্প সময়েই ভেজা খোল পানি শুষে কেমন তুলতুলে হয়!’

ক্ষুধার্ত বাঘ ভাবে, ‘ভারি মজার উপায় তো!’ দেরি না করে কচ্ছপটাকে পানিতে ছুড়ে মারে।

শেয়ালের চমত্কার বুদ্ধিতেই কচ্ছপ প্রাণে বাঁচে।

রূপান্তর : কুতুব আজাদ