মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অবিরাম বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি। মাত্র কয়েক দিন পরই ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখেছিল কৃষক। বন্যা কৃষকের সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। চরবাসী সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, মেছড়া, কাজীপুরের খাসরাজবাড়ি, মাইজবাড়ি, তেকানি, নাটুয়ার পাড়া, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, চৌহালীর স্থল, ঘোড়জান, সদিয়া চাঁদপুরসহ ২০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমির ফসল এখন পানির নিচে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দোরতা চরের কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, আমার দুই বিঘা জমিতে বাদাম লাগিয়েছিলাম। পানি দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এক ডেসিমেল জমির বাদাম তুলতে পারি নাই, তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় দুই বিঘা জমির পাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
অপর দিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেখা দিচ্ছে বন্যার আশঙ্কা। প্রতিদিনই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ধারণা করেন।
এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ইছামতি, ফুলজোর, হুরাসাগর, গোহালাসহ চলনবিল এলাকার বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চারণভূমি তলিয়ে গেছে ফলে গবাদি খামারিরা বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। খামারিরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে তুলেছেন। পোতাজিয়া গ্রামের খামারি আব্দুল আলিম জানান, চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গরু বাছুর বাড়িতে নিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, চারণভূমি না থাকায় পশুকে কাঁচা ঘাস না দিতে পারায় দুধের উত্পাদন কমে যেতে পারে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুতগতিতে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ সেন্টিমিটার। এখনো বিপত্সীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপপরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুল ইসলাম জানান, পানিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫০৯ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।