ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ঈশ্বরগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাটির উর্বরতাশক্তি ফিরিয়ে আনতে ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের পাইকুড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক কৃষি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে ভার্মি কম্পোস্ট সার উত্পাদন শুরু করেছেন। উত্পাদিত সার নিজের জমিতে ব্যবহার করে ধান, পাট ও শাকসবজির প্রচুর ফলন পেয়েছেন। জৈব সার ব্যবহারে ভালো ফলন দেখে অন্যরা আগ্রহী হয়ে ওঠায় কৃষক মোজাম্মেল হক বাণিজ্যিকভাবে এ কেঁচো সার উত্পাদন শুরু করেছেন।
উপজেলার পাইকুড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐ কৃষক বাড়ির আঙ্গিনায় ছায়াযুক্ত স্থানে ১০টি রিং স্থাপন করে পুরোনো গোবর আর রেড বেঙ্গল কেঁচো দিয়ে রিংগুলো ঢেকে রেখেছেন। প্রতিটি রিঙে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টি কেঁচো রয়েছে। কেঁচোগুলো রিঙের গোবর খেয়ে মল ত্যাগ করে। এই মল চা-পাতার মতো হালকা ও ঝুর ঝুর হয়ে রিঙের ওপর দিকে উঠতে থাকে। প্রথম এক মাস পর রিঙগুলো থেকে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি হয়। পরে প্রতি এক সপ্তাহ পর পর সার উত্তোলন করা যায়। ঐ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আখছার খান জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার জমিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যোগায়। এই সার রাসায়নিক সারের মূল্যের অর্ধেক বা তিন ভাগের এক ভাগ। কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, তার উত্পাদিত কম্পোস্ট সার ১০ টাকা কেজি দরে নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঈশ্বরগঞ্জে ১২ জন ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ছয় জন উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। কৃষকদের দিন দিন ভার্মি কম্পোস্ট সার উত্পাদনে আগ্রহ বাড়ছে।